Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির যেসব নেতার নাম

admin

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১১:০২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির যেসব নেতার নাম

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

শুক্রবার সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তা স্পিকারের কাছে জমা দেবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সংবিধানের বিধান—আজ দুপুরে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

Manual8 Ad Code

তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন তা নিয়ে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনা এবং রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম এ ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দল ও সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবেও মির্জা ফখরুলের নাম তালিকার শীর্ষে। মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হলে তিনি হবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

Manual5 Ad Code

দলীয় সূত্র জানায়, দলের অনুগত এবং দুঃসময়ের কাণ্ডারি হিসেবে তাকেই বিবেচনা করা হচ্ছে পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে।

Manual8 Ad Code

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুলের ইতিবাচক মনোভাব এবং বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি তাকে সর্বজন গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। দল-মত-নির্বিশেষে তিনি একজন সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। মির্জা ফখরুল ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ড. আব্দুল মঈন খান এমপি ও নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের দলের প্রতি আনুগত্য, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট রয়েছে। দলের বাইরে অরাজনৈতিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামটিও দলের হাইকমান্ডের তালিকায় রয়েছে বলে দলীয় একটি সূত্র জানায়।বাংলাদেশ জাতীয় খবর

সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেন, ‘একটি নামই আছে। আপাতত বিকল্প ভাবা হচ্ছে না। দলের আর বিকল্প নেই।’

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পর স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে অথবা একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে কে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নতুন রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আমি কোনো কর্তৃপক্ষও নই। নতুন রাষ্ট্রপতি যিনি আসবেন তাঁর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই অবগত আছেন। উনার বিভিন্ন মাধ্যম আছে, সব তথ্য উনার কাছে আছে। বাইরে থেকে বলার কিছু নেই।’

Manual7 Ad Code

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, “সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে—‘রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত, কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।”

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে সেটি পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

শেয়ার করুন