নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে বহুল আলোচিত যুবদল নেতা বদরুল আলম হত্যাকান্ডের সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৬ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানার এসআই হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রাম গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে একই গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে আমিন মিয়াকে আটক করেন।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক বলেন, আলোচিত বদরুল আলম হত্যাকান্ডের সন্দেহভাজন হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানার এসআই হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রাম গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে একই গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে আমিন মিয়াকে আটক করেন। তবে যুবদল নেতা বদরুল আলম হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনো গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
দূর্বৃত্তদের হামলায় নিহত যুবদল নেতা বদরুল আলমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) বাদ এশা হাদারপার শাহী ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় নিহত বদরুল আলমের জানাযার নামাজ। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন বদরুল আলমে বড় ভাই মাওলানা আখলাকুল আম্বিয়া।
এর আগে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদরুল আলমের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তার বাড়ীতে মরদেহটি পৌঁছে।
জানা গেছে, বদরুল আলম নিহতের খবরে পূরো গোয়াইনঘাট উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে পড়েছে। তার জানাযায় বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১০ টার দিকে নিহত বদরুল আলম ও তার সহযোগী সাদেক আহমদ ব্যবসায়ীক কাজে মোটরসাইকেল যোগে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজারে গিয়েছিলেন। এরপর ভোররাত আনুমানিক ৪টায় দুর্বৃত্তের হামলায় ঘটনাস্থলেই বদরুল আলম নিহত হন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত সাদেক আহমদ ও নিহত বদরুল আলমের ভাই মাওলানা আখলাকুল আম্বিয়া জানান, রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ব্যবসায়ীক কাজে মোটরসাইকেল যোগে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজারে গিয়েছিলেন নিহত বদরুল আলম ও ছাদেক। এ সময় তাদের সাথে নগদ ৩০ লক্ষ টাকা ছিল। ব্যবসায়ীক কাজ শেষে ভোররাতে বাড়ি ফেরার পথে তাদের সাথে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ২৯ টি গরুসহ গুরাগ্রামের দীঘি সংলগ্ন এলাকায় পৌছার পর রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রাম গ্রামের ময়বুর রহমানের ছেলে শাহীন আহমদ ও মামুন মিয়া এবং উপর গ্রামের আব্দুস শহিদ আহমদের ছেলে নোমান আহমদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে ১৫/১৬ সদস্যের সংঘবদ্ধ একটি দল বদরুল আলম ও সাদেক আহমেদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ২৯টি গরু ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় ধারালো রামদা ও ছোরার আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বদরুল ও সাদেক। দূর্বৃত্তরা তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। রবিবার (১১অক্টোবর) ভোরে পথচারীরা বদরুল আলম ও ছাদেকের দূর্ঘটনার খবর তাদের আত্মীয় স্বজনের কাছে পৌঁছে দেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে বদরুল আলম ও ছাদেক আহমদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দিকে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাদেক আহমেদ।