Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

admin

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৬:৩৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৬:৩৯ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্ক :
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদ কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পর এই ফল ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী-কর্তা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

Manual4 Ad Code

ফলে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে ৭৮ বছর বয়সী ফখরুলের আর কোনো বাধা রইল না। আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার আগে বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন ফখরুল। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব তিনি পালন করছিলেন। তবে এরই মধ্যে তিনি এই পদ দুটি ছেড়েছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দিতে ফখরুল নিজে আজ সংসদে উপস্থিত হন।
ভোটগ্রহণ শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যালট বাক্সের সামনে উপস্থিত হন মির্জা ফখরুল। তারেক রহমানের পর নিজের ভোট দেন তিনি।

Manual7 Ad Code

তারপর একে একে ভোট দেন অন্য সংসদ সদস্যরা। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরাই ভোট দিতে পারেন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি পদে এই দলের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়াটা প্রায় নিশ্চিতই ছিল।

Manual8 Ad Code

চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় ৩৫০ আসনের সংসদে বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর সংসদ সদস্য ২৫০ জন। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্য মোট ৯০ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন আটজন, ইসলামী আন্দোলনের একজন।

Manual4 Ad Code

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোট দেওয়ার সুযোগ তিনি পাননি। বিএনপির হয়ে বেশ কয়েকটি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এই রাজনীতিক বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর এনিয়ে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হলো।

১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। সেবার বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ, ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ, জিল্লুর রহমান, মো. আবদুল হামিদ, মো. সাহাবুদ্দিনের বেলায় বিরোধী দলের কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তারা।

সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নিয়েছিলেন। সেই হিসাবে তার মেয়াদ ছিল ২০২৮ সালের ২৩ পর্যন্ত।সরকারি সেবা ও নাগরিক তথ্যের সন্ধান করা

কিন্তু ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিস্থিতি যায় পাল্টে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সাহাবুদ্দিন এই পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও ছিলেন ব্যাপক চাপে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় গত ২৪ জুলাই অসুস্ষতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে।

শেয়ার করুন