Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের গোয়াইনঘাট প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

admin

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ০১:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ | ০১:১৪ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটের গোয়াইনঘাট প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বগাইয়া উত্তর গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ি ও তার চাচার ঘরে অবস্থান করছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। গত ৩ জুন বিকেল থেকে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের প্রেমিক কয়েছ মিয়া ও তার চাচা ইসলাম উদ্দিনের ঘরে ১৮ দিন ধরে বিয়ের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন তিনি। তবে এরই মধ্যে অন্য মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন প্রেমিক কয়েছ মিয়া।

Manual5 Ad Code

কয়েছ মিয়া উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বগাইয়া গ্রামের হাজি রফিক উদ্দিনের ছেলে।

Manual8 Ad Code

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হয়নি। গত ৩ জুন বিয়ের দাবিতে তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থানের খবর পাওয়ায় প্রেমিক পরদিন ৪ জুন অন্যত্র বিয়ে করে বউ নিয়ে বাড়িতে আসেন।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কয়েছ। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হলেও বিয়ে অনুষ্ঠান কমিউনিটি সেন্টারে হবে নাকি বাড়িতে হবে; এ নিয়ে দ্বন্দ্বে বিয়ে ভেঙে দেয় কয়েছের পরিবার। তরুণীর অভিযোগ, এরপর থেকেই কয়েছ মোবাইলের মাধ্যমে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে আলাপ শুরু করেন এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তোলেন কয়েছ।

প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের পাশাপাশি সিলেট শহরে নিয়েও অনেক ঘুরাঘুরি এবং আপত্তিকর ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন কয়েছ। এর কয়েক মাস পর কয়েছ তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে তরুণীর মা-বাবা তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এমতাবস্থায় কয়েছের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়ে মা-বাবার কথায় রাজি হয়ে এক প্রবাসীর সঙ্গে মোবাইলে আকদ (বিয়ে) হয় তার। বিয়ের খবর পেয়ে কয়েছ তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ও আপত্তিকর ভিডিও তার প্রবাসী স্বামীর কাছে পাঠায় এবং তাতে তার আকদে বিয়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। তাই গত ৩ জুন বিকেলে কয়েছের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করেন তিনি। তরুণীর দাবি, তার জীবন ধ্বংস করেছে কয়েছ, স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত তার বাড়ি ছাড়বেন না। দাবি পূরণ না হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অন্যদিকে তরুণীর মা দাবি করেন, বর্তমানে তার মেয়ে বিয়ের দাবিতে কয়েছের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ছেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি মীমাংসা করা যাচ্ছে না।

রুস্তমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, আমি গত ৪ জুন দুই পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। কয়েছ উপস্থিত না হওয়ায় তার সঙ্গে ফোনে আলোচনা করে একটি তারিখ ঠিক করেছিলাম। পরদিন জানতে পারি, ছেলে আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে আসছে। পরে ছেলের পরিবারের লোকজন রাজি না হওয়াতে বিষয়টি মেয়ের পক্ষকে জানিয়ে দেই। পরে বিষয়টি কী হয়েছে আমার আর জানা নেই।

Manual3 Ad Code

এ বিষয়ে কয়েছ মিয়া ফোনে জানান, মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এটা সত্য। এখন আমার ঘরে আরেক বেটি (বউ) আছে। আপনে পাবলু মেম্বার ও সাবই মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা বিষয়টি সমাধান করবে বলেও জানান তিনি।

Manual4 Ad Code

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য পাবলু মিয়া জানান, উভয়পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। মেয়ের দাবি, কয়েছ তাকে বিয়ে করতে হবে। অন্যদিকে, কয়েছ বিয়ে করতে রাজি হয়নি, তাই সমাধান হয়নি। মেয়েটি বর্তমানে কয়েছের চাচার ঘরে আছে।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন