Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন: নেপথ্যে মাজার-মসজিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরনো বিরোধ!

admin

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:২১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন: নেপথ্যে মাজার-মসজিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরনো বিরোধ!

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মাজার ও মসজিদ নিয়ে পুরনো দ্বন্দ্বের জেরেই ছুরিকাঘাতেরাসেল আহমদ শাহ খুন হন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের চকের বাজার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত রাসেল আহমদ শাহ (২৩) ওই এলাকার শারুক মিয়ার ছেলে। রাসেলকে ছুরিকাঘাতের পর দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

Manual1 Ad Code

সিলামের হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) মাজার ও মসজিদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চকেরবাজার এলাকার শাহ ও শেখ গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। গত ২২ আগস্ট এই দুই গোষ্ঠি মাজার ও মসজিদ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। সে সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাজার ও মসজিদ নিয়ে পুরো বিরোধ ও আগস্টের সংঘর্ষের জেরে কয়েক দিন আগে শাহ গোষ্ঠীর রাসেল আহমদ শেখ গোষ্ঠীর এক যুবকের ছবি দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে চকেরবাজার এলাকায় রাসেলকে পেয়ে শেখ গোষ্ঠীর লোকজন ছুরিকাঘাত করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

Manual5 Ad Code

এর জের ধরে চকেরবাজারে শাহ ও শেখ গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানাপুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Manual8 Ad Code

সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদুল হক ভূইয়া বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। ঝামেলার মধ্যে আছি। পরে বিস্তারিত বলতে পারবো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে সিলামের শেখপাড়া গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

উল্লেখ্য, ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনার জন্য গত ২৯ জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াকফ প্রশাসন থেকে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি এবং দক্ষিণ সুরমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহসভাপতি করে নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পান ফজলু মিয়া। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে রিবোধ সৃষ্টি হয়।

Manual3 Ad Code

পরে কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শাহ আব্দুল মান্নান হাইকোর্টে রিট করেন। ১৬ আগস্ট শুনানি শেষে হাইকোর্ট নতুন অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখেন। তবে সাময়িকভাবে মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে আবেদ রাজাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

শেয়ার করুন