সিলেটের ওসমানীনগরে চালকে হত্যা করে ছিনতাই হওয়া সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ে নেয়ার ঘটনায় আরো একজনকে গ্রেপ্তার করছে থানা পুলিশ।
অনলাইন জুয়া খেলার আয়ের টাকা দিয়ে অটোরিকশা ক্রয়ের লেনদেনের জেরে ছরতা(শুপারি কাটা যন্ত্র) দিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে অটোরিকশা চালক শিপনকে হত্যা করে লাশ ফেলে দিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে স্বীকার করে শিপন হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করে অভিযুক্ত কবির আলম টিপু (৩০)।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূল জবানবন্দি প্রদান করে টিপু।
ঘটনার ১২ দিন পর হত্যাকান্ডে জরিত কবির আলম টিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৫ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার শিবপুর (আউতহাটি) গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে কবির আলম টিপুকে একই এলাকার বাউশারী (রামচন্দ্রপুর) গ্রামের তার ফুফা হাসিম আলীর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশ টিপুকে নিয়ে ঘটনাস্থল ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউপির চাতলপাড় নদী থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছরতা উদ্ধার করে। এর আগে শিপনের লাশ উদ্ধারের একই দিন রাতে পুলিশের একটি দল নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় ছিনতাই হওয়া সিএনজি অটোরিকশাসহ কবির আলম টিপুকে ঘটনাস্থলে পাওয়া গেলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে পালিয়ে যায় হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত থাকা কবির আলম টিপু। ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাই হওয়া সিএনজি গাড়িটি উদ্ধার করলেও কবির আলম টিপুকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ। অটোরিকশাতে একাধিক ধারালো অস্ত্র পায় পুলিশ।
এদিকে, একই ঘটনায় জরিত থাকার অভিযোগে গত ১৫ ডিসেম্বর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের সোয়ারগাঁও গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলীর পুত্র আব্দুস সামাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে, এই ঘটনার সাথে আরো কেউ জরিত আছে কি না এমন কোন তথ্য দিতে রাজি হয়নি পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে সিলেটের জুডিশিয়াল আমলী ৪নং আদালতের বিচারক ইয়াছমিন আক্তারের আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালতের বরাত দিয়ে শিপন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বরাত থেকে জানা যায়, কবির আলম টিপু ঘটনা কয়েক দিন পূর্বে অনলাইনে জুয়া খেলে ৭০ হাজার টাকা পায়। এই টাকায় কবির আলম টিপু একটি সিএনজি অটোরিকশা গাড়ী ক্রয় করে দেওয়ার জন্য চালক শিপন আহমদকে প্রস্তাব করে। সিএনজি গাড়ী ক্রয় বাবদ শিপন আহমদকে দেড় লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কবির আলম টিপু তাকে ৮০ হাজার টাকা প্রদান করে। সিএনজি গাড়ী ক্রয়-বিক্রয় কালে কবির আলম টিপু ৭০ হাজার টাকা কম দেওয়ায় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাটির এক পর্যায়ে কবির আলম টিপু তার মায়ের জন্য ক্রয়কৃত ছরতা দিয়া এলোপাতারি ভাবে কুপিয়ে শিপন আহমদকে হত্যা করে সিএনজি অটোরিকশা গাড়ী নিয়া পালিয়ে যায় টিপু।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে কবির আলম টিপুকে গ্রেফতার ও মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হই।
মামালার বাদী নিহতের স্ত্রী গুলবাহার বেগম বলেন, হত্যাকান্ডে ব্যবহিত ছরতা উদ্ধারের সময় আমাদের কাউকে সাথে নেয়নি পুলিশ। আমরা ধারনা করছি ছরতা দিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়নি। সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধারকালে একাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেখানে, ছুরি, চাপাতি, দা, লোহার পাইপ ছিল। সংঙ্গবদ্ধ একাধিক ব্যক্তি মিলে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
লাশের মুখের বামপাশে কানের নিচে এবং বুকের বাম পাশে গুরুতর রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল। আমরা এই হত্যাকান্ডের আসল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মুরশেদুল আলম ভূইয়া বলেন, শিপন হত্যা মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে স্বীকারোক্তিতে লুন্ঠিত সিএনজি ও হত্যাকান্ডে ব্যবহিত ছরতা উদ্ধার করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলে ঘটনার সাথে জরিত আর কেউ আছে কিনা তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছেনা। তবে এর আগে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুস সামাদও ঘটনায় সম্পৃক্ত।
উল্লেখ্য,গত ১৪ ডিসেম্বর উপজেলার দয়ামীর ইউপির রাইকদাড়া(গাংপাড়) গ্রামের আশরফ আলীর ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক শিপন আহমদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উপজেলার সাদিপুরের চাতলপাড় কেশবকালী নদীর পার থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিন নিহতের স্ত্রী গুলবাহার বেগম বাদি হয়ে ওসমানীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।