Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামীতে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্টও ছাড় পাবে না: ডা. শফিকুর রহমান

admin

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
আগামীতে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্টও ছাড় পাবে না: ডা. শফিকুর রহমান

Manual5 Ad Code

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চলছে। কিন্তু জুলাই যোদ্ধারা তা বাস্তবায়ন হতে দেবে না। আপনারা এক সময় মজলুম ছিলেন। এখন আপনারা জালেম হওয়ার চেষ্টা করবেন না। মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা করবেন না। রাজার ছেলে রাজা হবে এই প্রথায় বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে। আগামীতে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্টও ছাড় পাবে না। অপরাধ করে কেউ দায় মুক্তি পাবে না।’

Manual2 Ad Code

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল ময়দানে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগের একটি সরকার দেশ এবং জাতির ওপরে প্রতিশোধের রাজনীতি করেছে। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করবো না। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিকে হারাম মনে করি। রাজনীতি হবে নীতির রাজ। ওই নীতি দিয়েই দেশ পরিচালনা করব। যে যায় লংকায় সেই হয় রাবণ। কিন্তু আমরা কথা দিয়ে কথা রাখবো।’

আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে নিজ দলের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সবচাইতে মজলুম দলের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আর কোন দলের এক থেকে ধরে ১১ পর্যন্ত খুন করা হয় নাই। আর কোন দলের অফিস তালা দেওয়া হয় নাই, কোন দলের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয় নাই। আর কোন দলকে নিষিদ্ধ করা হয় নাই। আর কোন দলের নেতার বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া হয় নাই। একমাত্র জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে তা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গুমের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। শহীদদের রক্ত এবং যুবসমাজের তাজা রক্তে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে।’

ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী অপরাধীর বিচার যথাযত বিচার করার প্রতিশ্রুতির কথা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি কারও ওপর প্রতিশোধ নেব না। কেউ অপরাধ করলে আইন তার বিচার করবে। আমরা আইন হাতে তুলে নেব না। আমরা বলে যাচ্ছি একজন নাগরিকও যেন কোন মামলায় হয়রানির শিকার না হয়। আমরা বিশ্বাস করি কেউ আমাদের ওপর জুলুম করে থাকলে আখেরাতের ময়দানে এর বিচার পাবো।’

জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলের চাঁদাবাজ নির্মূল করা হবে জানিয়ে দলটির আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামীর রাষ্ট্র গঠন করলে সমাজ থেকে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, লুটতরাজ বন্ধ করা হবে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা, ফ্যাসিবাদী নীতি কায়েম করে দেশের জনগণের অধীকার হরণ করার নীতি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্র চলবে নাগরিক ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, কোন দল মত, বর্ণ বিবেচনায় কাউকে অধিক সুবিধা দেওয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মামলা বাণিজ্য করিনি, চাঁদাবাজি করিনি, আমরা নির্যাতন সহ্য করেছি। আমরা সমাজে ইনসাফ কায়েম করব, একজন শ্রমিক ও রিক্সাচালক অন্যায় করলে যেমন শাস্তি হবে তেমনি একজন উচ্চবিত্ত নাগরিকের ক্ষেত্রেও সেই বিধান মানতে হবে। দরকার হয় ব্যক্তিগত ছোটখাটো ভুল ক্ষমা করা হবে, কিন্তু দেশকে নিয়ে কোন অন্যায় কাজ করা হলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। আমরা আর কোন পরিবারতন্ত্র রাজনীতি চাই না। একজন কৃষকের ছেলেও যেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে আমরা সেই রকম সরকার ব্যবস্থা চাই।’

Manual2 Ad Code

তিনি বলেন, ‘আপনারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। এই দেশকে বাঁচাতে, দেশের বিজয়কে টিকিয়ে রাখতে সবাই গণভোটে হ্যা ভোট দিবেন। হ্যা মানে আজাদী, না মানে গোলামী। আমরা আর গোলামী থাকতে চাই না। আমরা আজাদি হয়ে এই দেশকে, দেশের মানুষকে নিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা প্রত্যেকটা শহীদ পরিবারের কাছে গিয়ে হাজির হয়েছি। আমরা বলেছি আজ থেকে আমরাও আপনাদের পরিবারের সদস্য। গণঅভ্যুত্থানে দেশের বহু নিরপরাধ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজকে আমরা কথা বলতে পারছি। ইনশাআল্লাহ আগামী ১৩ ফেব্রæয়ারি বাংলাদেশে নতুন সুর্য উদয় হবে।’

প্রশাসন ও মিডিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কোন দলের আনুক‚ল্য করবেন না। দেশের মানুষের পক্ষে থাকুন। আপনারা জাতির চোখ, দর্পণ, আয়না। মিডিয়া জাতির বিবেক। আপনারা অন্যায়কে সমর্থন করবেন না। আমরা চাই আপনারা ন্যায়ের পক্ষে থাকেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকেন। কল্যাণের পথে থাকেন। জামায়াত সরকার গঠন করলে সরকারি খরচে মেয়েরা মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করবে।’

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে। যেহেতু ঘোষণা দিয়েছি এটা পবিত্র দায়িত্ব। অন্য কেউ যদি সরকার গঠনও করে এটা আমরা করাতে বাধ্য করব। দেশে চারটা বিভাগ ছিল, বেড়ে বেড়ে আটটা হয়েছে, দশটা হবে, বারোটা হবে, কোন সমস্যা নাই। কিন্তু কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হতেই হবে। এছাড়া কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি করা হয়েছে। এখানে একটা ইপিজেড আছে। আমি বিশ্বাস করি ইপিজেডকে যদি আন্তর্জাতিক মানের রূপান্তর করা যায় তাহলে বিমানবন্দরটাকেও সচল রাখা যাবে। কুমিল্লার সবকটি দাবি যুক্তিসঙ্গত। আমরা কথা দিচ্ছি কোন এলাকাকে অযৌক্তিক কারণে বঞ্চিত করব না।

বক্তব্য শেষে তিনি কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর শাহজাহান, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম প্রমুখ।

Manual4 Ad Code

এর আগে সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন