Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের দিনের করণীয় ও বর্জনীয়— ইসলামের নির্দেশনা কী?

admin

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
ঈদের দিনের করণীয় ও বর্জনীয়— ইসলামের নির্দেশনা কী?

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদ আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক অনন্য দিন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতর, যা মুমিনদের জন্য পুরস্কারের বার্তা বহন করে। তাই এ দিনটি কেবল উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সুন্নত অনুযায়ী জীবনযাপন, ইবাদতে মনোযোগ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করার সুযোগও বটে।

নিচে ঈদের দিনের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—

ঈদের দিনের করণীয়

১. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা

ঈদের দিন সকালে গোসল করে পরিচ্ছন্ন হওয়া মুস্তাহাব। সাহাবায়ে কেরাম এ আমল করতেন। হজরত নাফে (রহ.) বলেন—

كان ابن عمر يغتسل يوم الفطر قبل أن يغدو إلى المصلى

‘আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন।’ (মুয়াত্তায়ে মালিক ৪৮৮)

আরও বর্ণনায় এসেছে—

‘তিনি উত্তমভাবে গোসল করতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং সেরা পোশাক পরে ঈদের নামাজে যেতেন।’ (শরহুস সুন্নাহ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩০২)

২. উত্তম পোশাক ও সাজসজ্জা

ঈদের দিন নিজের সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব। হজরত নাফে (রহ.) বলেন—

كان ابن عمر يلبس أحسن ثيابه في العيدين

Manual4 Ad Code

‘আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) দুই ঈদে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন।’ (বাইহাকি ৬১৪৩)

উত্তম পোশাক মানেই নতুন পোশাক নয়; বরং নিজের কাছে থাকা ভালো পোশাক পরিধান করাই যথেষ্ট।

৩. সদকাতুল ফিতর আদায়

ঈদুল ফিতরের দিন যাদের নেসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

أمر رسول الله ﷺ بزكاة الفطر أن تؤدى قبل خروج الناس إلى الصلاة

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।’ (বুখারি ১৫০৯)

হজরত নাফে (রহ.) বলেন—

Manual2 Ad Code

كانوا يعطون قبل الفطر بيوم أو يومين

‘তারা ঈদের এক বা দুই দিন আগে ফিতরা আদায় করতেন।’ (আবু দাউদ ১৬০৬)

ঈদের সময়ে আদায় না হলে পরে অবশ্যই তা আদায় করতে হবে। (কিতাবুল আছল ২/২০৭; ফাতহুল কাদির ২/২৩১; রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৮)

৪. ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর খাওয়া

ঈদুল ফিতরের দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ, তাই এর প্রকাশ হিসেবে ঈদগাহে যাওয়ার আগে কিছু খাওয়া মুস্তাহাব। হজরত আনাস (রা.) বলেন—

كان النبي ﷺ لا يغدو يوم الفطر حتى يأكل تمرات ويأكلهن وتراً

‘নবী (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন খেজুর না খেয়ে বের হতেন না, এবং বেজোড় সংখ্যক খেতেন।’ (বুখারি ৯৫৩)

৫. বেশি বেশি তাকবির পাঠ

হজরত নাফে (রহ.) বলেন—

Manual2 Ad Code

كان ابن عمر يكبر يوم العيد حتى يأتي المصلى وحتى يخرج الإمام

‘ইবনে ওমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়া থেকে ইমাম আসা পর্যন্ত তাকবির বলতে থাকতেন।’ (দারাকুতনী ১৭১৬)

Manual3 Ad Code

৬. ভিন্ন পথে যাতায়াত

হজরত জাবের (রা.) বলেন—

كان النبي ﷺ إذا كان يوم عيد خالف الطريق

‘নবী (সা.) ঈদের দিন ভিন্ন পথে যাতায়াত করতেন।’ (বুখারি ৯৮৬)

৭. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া

كان رسول الله ﷺ يخرج إلى العيد ماشياً ويرجع ماشياً

‘রাসুল (সা.) ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং ফিরতেন।’ (ইবনে মাজাহ ১২৯৫)

৮. ঈদের নামাজ আদায়

ঈদের নামাজ দুই রাকাত ওয়াজিব, যা জামাতে আদায় করতে হয়। খোলা ময়দানে আদায় করা উত্তম। (ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৯)

শেয়ার করুন