Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ঋণের শর্তভঙ্গ’ করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা গুনেছিলেন সারওয়ার আলম‘

admin

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৪:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৪:২২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
‘ঋণের শর্তভঙ্গ’ করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা গুনেছিলেন সারওয়ার আলম‘

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার নিয়ে আলোচনায় আসা সিলেটের সদ্য বিদায়ী ডিসি মো. সারওয়ার আলমের নিজের গাড়ি ক্রয়ে ঋণের শর্ত ভঙ্গ করে জরিমানা গোনার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। গাড়ি কেনার জন্য নেওয়া সুদমুক্ত ঋণের নিয়ম ভাঙায় খোদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাঁকে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকারও বেশি জরিমানা করেছিল।

Manual5 Ad Code

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখা থেকে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা অনুযায়ী এই জরিমানা করা হয়।

Manual2 Ad Code

চলতি বছরের গত ২৯ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখার উপসচিব মঈন উদ্দিন ইকবাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে (স্মারক নং ০৫.০০.০০০০.০০০.১২৪.৮৯.০০০২.২৩.২৬৮) এই জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিদায় নেওয়ার আগ পর্যন্ত এই জরিমানার টাকা তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আদৌ পরিশোধ করেছিলেন কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসন এনিয়ে কোনো তথ্য দেয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠি থেকে জানা যায়, ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের অনুকূলে গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা অগ্রিমের সরকারি মঞ্জুরি আদেশ জারি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর।

নীতিমালার ৭(১) ধারা অনুযায়ী, ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরের অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে ‘গ’ ফরম বা বন্ধকী ফরমে স্বাক্ষর করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট ৯০ দিনের মধ্যে এই ফরম স্বাক্ষর করতে ব্যর্থ হন, তবে ঋণের ওপর ১৫ শতাংশ হারে জরিমানা প্রদানের বিধান রয়েছে। সারওয়ার আলমের ক্ষেত্রে সেই ৯০ দিনের সময়সীমা ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর অতিক্রান্ত হয়ে যায়। কিন্তু তিনি সেই নির্ধারিত সময়ে বন্ধকী ফরমে স্বাক্ষর না করে দীর্ঘ সময় পর, অর্থাৎ চলতি বছরের ২২ এপ্রিল ‘গ’ ফরমে স্বাক্ষর করেন।

Manual7 Ad Code

নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর চুক্তি স্বাক্ষর করায় নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫০৭ দিনের জন্য গৃহীত ৩০ লাখ টাকা ঋণের ওপর ১৫% হারে (শতকরা পনের টাকা) মোট ৬,২৫,০৬৮.৪৯ (ছয় লক্ষ পঁচিশ হাজার আটষট্টি টাকা ঊনপঞ্চাশ পয়সা) টাকা জরিমানা হিসাব করা হয়।

Manual3 Ad Code

চিঠিতে নির্দিষ্ট কোড নম্বর (১০৭০১০১১০০৭১৯-১৪৩১১০১) উল্লেখ করে এই বিপুল অঙ্কের জরিমানার টাকা চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদানপূর্বক অবিলম্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য সারওয়ার আলমকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছিল।

সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে খোদ ডিসির নামে মন্ত্রণালয়ের এমন বড় অঙ্কের জরিমানার চিঠির ব্যাপারে জানতে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকী সাহার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভিন ‘বিষয়টি তাঁর জানা নেই’ বলে জানান।

শেয়ার করুন