Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেমন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা, আলোচনায় কারা

admin

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:১২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
কেমন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা, আলোচনায় কারা

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় প্রধান তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। এখন দলীয় অন্দরমহল ও রাজনৈতিক মহলে মূল আলোচনা নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় কাদের নাম থাকছে, তা নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা।

Manual4 Ad Code

বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এখন ব্যস্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতিতে।

Manual6 Ad Code

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের প্রাধান্য থাকবে। বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। পুরো দেশ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, অভিজ্ঞ ও দক্ষ তারুণ্যের মিশ্রণে এবারের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জমায়েতে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। এবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। তাই নজরুল ইসলাম খান নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকছেন, এ আলোচনা দলের ভেতরে-বাইরে আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও আলোচনায় আছে। জাহিদ হোসেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠনের নেতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের একজন ছিলেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি খাতের বড় উদ্যোক্তা হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত। তাঁরা মন্ত্রিসভার নতুন মুখ হতে পারেন।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব পদের দুজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। তাঁরা নির্বাচন করেননি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিবের কথা ভাবা হচ্ছে, যিনি দলের বিভিন্ন নীতি-গবেষণার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বিগত সময়ে দায়িত্বে ছিলেন, এমন কারও কারও নামও আলোচনায় আছে।

Manual3 Ad Code

নারীদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে একাধিক জনকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সংখ্যালঘু বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্য থেকেও মন্ত্রিসভায় একাধিক জনকে রাখা হবে। এই ক্ষেত্রে একজন প্রবীণ নেতা এবং পার্বত্য এলাকার একজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

এবারের মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ তরুণ মুখ ঠাঁই পেতে পারেন। তাঁদের মধ্যে পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০০১ সালের মন্ত্রিপরিষদে ছিলেন, অপেক্ষাকৃত বিতর্ক কম ছিল—এমন ব্যক্তিরাও কেউ কেউ নতুন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন।

বিগত যুগপৎ আন্দোলনের সময় মিত্র দলগুলোকে নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। মিত্র বা শরিক দলগুলো থেকে নিজ নিজ দলের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন তিনজন নেতা। এর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। এই নির্বাচনে মিত্র দলের সাতজন নেতা নিজ দল ছেড়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাঁদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ জয়ী হয়েছেন। তাঁদের নামও আলোচনায় আছে।

Manual6 Ad Code

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের মন্ত্রিসভা খুব বড়সড় না করার চিন্তা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কলেবর একটু বড় হতে পারে। একাধিক উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী বা অন্য কোনো নামে অনেককে যুক্ত করা হতে পারে। যার মধ্যে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন। এই ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকে কাজ করা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা একাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারেও আছেন, এমন একজনের নামও আলোচনায় আছে।

নতুন সংসদ, নতুন সরকার—এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দিকে। এখন সবার নজর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার দিকে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ  বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে, তা দেখতে দেশবাসীকে আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে।

শেয়ার করুন