নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের রামুতে স্ত্রী কর্তৃক স্বামী হত্যার ঘটনায় ১ জন আসামি সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) এবং (র্যাব-১৫) এর আভিযানিক দল। বুধবার (০৮ জুলাই) রাত আনুমানিক পৌণে ৮টার দিকে সিলেটের কোতোয়ালী থানাধীন শাহী ঈদগাহ মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি আকতার কামাল (৪২)। তিনি কক্সবাজার জেলার রামু থানান কালারপাড়া এলাকার হামজা আলীর ছেলে।
ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র্যাব জানায়, ভিকটিম ছৈয়দ হোসেন কক্সবাজার জেলার রামু থানাধীন কালারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ০১ নম্বর বিবাদী আনোয়ারা বেগম ভিকটিমের স্ত্রী এবং ০২ নম্বর বিবাদী ভিকটিমের বোনের স্বামী। ভিকটিম ২০১৯ সাল থেকে প্রবাসে অবস্থান করাকালে ০২ নম্বর বিবাদী তার পরিবারের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করে বাড়িতে পৌঁছে দিতেন। এ সুবাদে তার ভিকটিমের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই যাতায়াতের একপর্যায়ে ০২ নম্বর বিবাদীর সঙ্গে ভিকটিমের স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভিকটিম ২০২৩ সালে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে ০২ নম্বর বিবাদীকে তার বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ০২ নম্বর বিবাদী গোপনে ভিকটিমের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিকটিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও মনোমালিন্য চলতে থাকে। গত ২৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে ভিকটিমের মেয়ে তার চাচাকে ফোন করে জানান যে, তার বাবা মারা গেছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নসহ মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই অভিযোগ করেন যে, ভিকটিম তার স্ত্রী ও ০২ নম্বর বিবাদীর পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় তারা অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় ২৪ জুন ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ২৫ জুন ২০২৬ ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময়ে তাকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে কক্সবাজার জেলার রামু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।