জেলা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে গুরুতর আহত ববিতা খাতুন (২৭) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলাইমান শেখ বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ববিতা খাতুন জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের জননী এবং তালাকপ্রাপ্ত ছিলেন। সন্তানদের নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাত আনুমানিক রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে—একজন প্রতিবেশী তার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ঘটনাটি ঘটে যখন তিনি নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা প্রথমে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে মৃত্যুর আগে ববিতা খাতুন একজন প্রতিবেশীর নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, মৃত্যুর আগে তিনি একজন প্রতিবেশীর নাম বলেছেন, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।