Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ: নির্বাচনী আবহে বৈচিত্র্যময় প্রচারণা

admin

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৬:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৬:১৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ: নির্বাচনী আবহে বৈচিত্র্যময় প্রচারণা

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
নির্বাচনী প্রচারনার সেই চিরচেনা দৃশ্য নেই। সংকুচিত হয়েছে প্রচারণার ক্ষেত্র। একসময় নির্বাচনের মৌসুম এলেই সর্বত্র সড়ক-মহাসড়ক, অলিগলির দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি আর গাছ ভরে যেত রঙিন পোস্টারে। রাতভর মাইকিং, রোডশো আর ব্যানার টাঙানো ছিল নির্বাচনি প্রচারের চেনা দৃশ্য। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিপক্ষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, ব্যানার ভাঙচুর কিংবা নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রচার চালানোর অভিযোগ ছিল বিস্তর। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। নির্বাচনি প্রচারের কৌশলেও লেগেছে বৈচিত্র্যের হাওয়া। বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের কোথাও প্রচারণার সেই চিরচেনা চিত্র দেখা যায়নি। তবে দুই উপজেলার সর্বত্র নির্বাচনী উন্মাদনা পুরোদমে বিরাজ করছে।

Manual3 Ad Code

জানা যায়, আগের নির্বাচনগুলোতে পোস্টার ছিল প্রচারের প্রধান অস্ত্র। এবার তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো না থাকলেও এখন ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জে নির্বাচনে এবারই প্রথম ব্যাপকহারে ডিজিটাল প্রচার প্রচারনা চলছে। প্রার্থীর পক্ষে অনেকেই বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটার, মেইল, ম্যাসেনজারে প্রচার প্রচারনায় দিনরাত ব্যাস্থ সময় পার করছে। কোথায় জনসভা, পথসভা, গনসংযোগ, মিছিল হলেই ২-১ মিনিট এমনকি কখনও কখনও মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছবিসহ প্রোগ্রামের খবর ভেসে উঠছে এ্যানড্রয়েড মোবাইলের পর্দায়। যা মুহুর্তেও মধ্যে দেশ-বিদেশের হাজার মোবাইলে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এমন কোন প্রত্যান্ত এলাকা নেই যেখানে ব্যাবহার হচ্ছে না এই ডিজিটাল প্রচারটি, তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ফেসবুক। ডিজিটাল এ প্রচারে জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতারা জানতে পারছে কোন এলাকায় কখন কোন নেতা অবস্থান করে নির্বাচনী প্রচারে অংশ গ্রহণ করছেন। আবার এই সুযোগ পেয়ে ডিজিটালের অপব্যাবহারও করছে অনেকে।

Manual2 Ad Code

আগামী ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এর পরদিন থেকে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুরু হবে দল ও প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রম। নির্বচানে প্রচারে এবার পোস্টারের পরিবর্তে দল ও প্রার্থীরা উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা এবং সীমিত আকারে বিলবোর্ডের ওপর নির্ভর করছেন। ডিজিটাল প্রচার বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। পোস্টারনির্ভর উত্তেজনাপূর্ণ প্রচার থেকে সরে এসে তথ্যভিত্তিক ও সচেতনতা-নির্ভর প্রচার ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে– যার চূড়ান্ত পরীক্ষাটি হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন।

তবে ডিজিটাল প্রচারণায় বেশ অসুবিধাও আছে। গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত হওয়ায় ডিজিটাল প্রচার সব ভোটারের কাছে সমানভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। অনেক প্রার্থী মনে করছেন, প্রচারের মাধ্যম সীমিত হওয়ায় এবার সর্বস্তরে প্রার্থী পরিচিতি তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Manual1 Ad Code

সুজন বিয়ানীবাজার শাখার সভাপতি এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন বলেন, ‘২০২৫ সালের সংশোধিত আরপিও ও আচরণবিধি বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া একটি বড় সংস্কার। এখন নির্বাচনি প্রচার শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ নেই, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মই হয়ে উঠেছে প্রধান ক্ষেত্র। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই পোস্টার নিষিদ্ধ, সোশ্যাল মিডিয়া নিবন্ধন ও এআই ব্যবহারে কড়াকড়ির মতো বিধানগুলো যুক্ত করা হয়েছে।’ তার মতে, নতুন বিধান নির্বাচনি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে কতটা সমানভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর। অনলাইন প্রচার নিয়ন্ত্রণ ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি– এই দুই জায়গায় চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে বেশি।

Manual4 Ad Code

বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান জানান, ডিজিটাল প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে কঠিন। ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল নিবন্ধন করা হলেও ফেক আইডি, থার্ড পার্টি প্রচার বা গোপন অর্থায়নের ঝুঁকি থেকেই যায়। কমিশনকে এখানে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

শেয়ার করুন