Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল মাজারে এবার মিললো যেসব দেশের মুদ্রা

admin

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
শাহজালাল মাজারে এবার মিললো যেসব দেশের মুদ্রা

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
৩৪ দিন পর তৃতীয়বারের মতো খোলা হল সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের তালা। এসময় বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ, রোপাসহ বিভিন্ন চিঠিও পাওয়া যায়। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয় গণনার কাজ সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৬টার দিকে শেষ হয়।

Manual4 Ad Code

গণনা শেষে দেখা যায়, তৃতীয়বারের মতো খোলা দানবাক্স ও ডেগের প্রচুর পরিমাণ বাংলাদেশী টাকা পাওয়া যায়। ৩৪ দিনে দানবাক্স ও ডেগে ভক্তদের দেওয়া ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। এসময় মাজারের দানবাক্স ও ডেগে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাজ্যের ৩১ দশমিক ১১ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানের ৬০ রুপি, সৌদি আরবের ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ ডলার, নেপালের ১০০ রুপি, ওমানের ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৬৪ দিরহাম ২২ সেন্ট, ইরাকের ২৫০ দিনার, তুরস্কের ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ১ হাজার ডং, জাপানের ১ হাজার ইয়েন, কাতারের ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের ১০ পাউন্ড, মিশরের ১০ পাউন্ড, ইউরোর ৪০ পয়সা, বাহরাইনের ১ পয়সা এবং কানাডার ১ ডলার। অন্যদিকে স্বর্ণ ও রৌপ্যর মধ্যে রয়েছে- ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১ ভরি ২ আনা রৌপ্য।

Manual1 Ad Code

উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের মোট টাকার পরিমাণ ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব প্রকাশ করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এসময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনা করেন। ৩৪ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে মোট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রৌপ্যও পাওয়া যায়। এ সময় ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন চিঠিও পাওয়া গেছে।

Manual5 Ad Code

তিনি আরও বলেন, এছাড়া মাজারে দেওয়া ভক্তদের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির নজরানা হিসেব মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে।

গণনা শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার নীতিমালা তৈরি করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের নেতত্বে আমাদের কারো কয়েকজনকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। আমরা অচীরেই একটি নীতিমালা নির্ধারণ করে দেবো। সেই নীতিমালার আলোকেই পরবর্তীতে টাকা গণনা ও ব্যবস্থাপনা হবে।’

প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি বছরের ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর নির্দেশে ১৮ জুন ডেগে সিলগালা এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপড়েন দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর ২২ জুন প্রথম দফায় তা খুলে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। প্রথম গণনার ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। তখন পাওয়া যায় নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ সময় একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রীও পাওয়া যায়। দুই দফায় গণনাকৃত ওই টাকা মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়।

Manual5 Ad Code

শেয়ার করুন