Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিকসের ঘোষণায় সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা

admin

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৩৫ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
ব্রিকসের ঘোষণায় সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা

Manual7 Ad Code

নিউজ ডেস্ক:
ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’। এতে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে বিশ্বের সব ধরনের ‘আগ্রাসনের নিন্দা’ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিরোধ ও সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সম্মেলনের সভাপতি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ ঘোষণাটি প্রকাশ করেন।

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিতে হবে। একতরফা সামরিক পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করা হয়েছে ঘোষণায়।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে ঘোষণার ভাষা চূড়ান্ত করতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানের পার্থক্যের কারণে যৌথ অবস্থান নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

তবে কয়েক দিনের ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত অভিন্ন ভাষায় সম্মত হয় দুই দেশ। এর ফলে সম্মেলনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে যৌথ ঘোষণা গ্রহণ সম্ভব হয়।

Manual4 Ad Code

এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সেই পরিস্থিতির পর এবারের শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোকে একটি অভিন্ন অবস্থানে নিয়ে আসাকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নয়াদিল্লি ঘোষণায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাব বাড়ানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন নেতারা।

Manual7 Ad Code

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া পরিষদে আরও বড় ভূমিকা পালনের জন্য ব্রাজিল ও ভারতের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ঘোষণায় বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আরও প্রতিনিধিত্বশীল, কার্যকর ও ন্যায্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিকস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে যৌথ ঘোষণায়।

Manual3 Ad Code

ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি শুল্ক ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে ঘোষণায়। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জোটটির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে নেতারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ ব্রিকসের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি ব্রিকস সদস্য দেশগুলোতে বসবাস করে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও জোটটির অংশ প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ব্রিকসের যৌথ অবস্থান ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

Manual5 Ad Code

শেয়ার করুন