Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিল নবাগত কেপ ভার্দে

admin

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ | ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিল নবাগত কেপ ভার্দে

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
শক্তি-সামর্থ্যে এবারের বিশ্বকাপে ‘হট ফেবারিট’ স্পেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞ হতে শুরু করে প্রযুক্তি, সব বুদ্ধিমত্তার বিবেচনাতেও শিরোপা জয়ের দাবিদার স্প্যানিশরা। এমন শক্তিশালী স্পেনকে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় রুখে দিল বিশ্বকাপের নবাগত দল কেপ ভার্দে।

সোমবার (১৫ জুন) আটালান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হওয়া ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচটি গোলশূন্য করে বিশ্বকে চমক দিয়েছে নতুন এই দলটি।

Manual7 Ad Code

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব ভুলে কেবল রক্ষণে মনোযোগী ছিল কেপ ভার্দে। পুরো ১১ ফুটবলার নিয়ে নিজেদের অর্ধে ১৮ গজ ছেড়ে খুব কমই মাঠের ওপরে ছিল তারা। সংখ্যাই তার প্রমাণ। প্রথমার্ধে ৭০ শতাংশ সময় বল ছিল স্পেনের দখলে। নেয় ৫টি অন-শট। বিপরীতে কেপ ভার্দের সংখ্যা ছিল শূন্য। তবে তাদের গড়ে তোলা রক্ষণে একাধিকবার কম্পন ধরায় স্প্যানিশরা। কিন্তু গোলমুখে ভোজিনহা যেন এদিন পেয়েছিলেন আধ্যাত্মিক শক্তি।

Manual8 Ad Code

ম্যাচের ১৫ মিনিটে প্রথম চমক দেখান ভোজিনহা। পেদ্রির ডান পায়ের দারুণ এক শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন এই গোলরক্ষক। কেপ ভার্দের গোলমুখে চলতে থাকে স্প্যানিশদের চেষ্টা। যা কখনো ভেস্তে যায় ভুল শটে, কখনো পোস্টের বাধায়, কখনো বা ভোজিনহার বীরত্বে। বলাই যায়, গোলমুখে তিনি না থাকলে প্রথমার্ধে একাধিক গোলই হজম করতে হতো নতুন দলটিকে, বিশেষ করে ম্যাচে ৩৯ মিনিটের মাথায়।

Manual8 Ad Code

তখন ৪০ বছরের ভোজিনহা তৃতীয়বারের মতো রক্ষা করেন দলকে। তাদের ডি-বক্সে রদ্রি বল বাড়ান মার্ক কুকুরেল্লাকে। স্প্যানিশ লেফট-ব্যাক তা এগিয়ে দেন ফেরান তোরেসের দিকে কিন্তু তার শট প্রতিহত হয় ক্রসবারে। তখনই ফিরতি বলে আরেকটি শট নেয় স্পেন। শূন্যে লাফিয়ে গোলবারের ওপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন ভোজিনহা। সেই দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল, যেন সিনেমার সুপারম্যান নেমে এসেছে আটালান্টায়।

প্রথমার্ধের অন্তিম মিনিটে আবার হতাশ হন তোরেস। তবে এ যাত্রায় গোলপোস্ট নয়, বক্সের মাঝ থেকে নেওয়া তার শট রুখে দেন ভোজিনহা। যোগ করা সময়ে তাকে আর কোনো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি স্প্যানিশরা। এই অর্ধে সহজ-কঠিন মিলিয়ে কম হলেও চারটি দুর্দান্ত সেভ উপহার দেন ভোজিনহা। ফলস্বরূপ প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। বলা বাহুল্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে জালের দেখা পেল না স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধে যথারীতি রক্ষণে মগ্ন থাকে কেপ ভার্দে, আর আক্রমণে স্পেন এবং মুগ্ধতা ছড়াতে থাকেন ভোজিনহা। অবস্থা বেগতিক দেখে ৭১ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দ্বারস্থ হন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। চোট কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠা শিষ্যকে মূলত বিশ্রাম দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গোলহীন ৭০ মিনিটের পর তরুণ তুর্কির বিশ্বকাপ অভিষেকের দৃশ্য মঞ্চায়ন করেন ফুয়েন্তে। ৮১ মিনিটে তোরেসকে তুলে দানি ওলমো এবং ৮৭ মিনিটে রদ্রির বদলি হিসেবে নামান নিকো উইলিয়ামসকে।

স্কোয়াডের শক্তিই ব্যবহার করেন ফুয়েন্তে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার এবং দুর্ভাগ্য স্পেনের, যারা জয়ের গল্পে রাঙাতে পারেনি বিশ্বকাপের শুরুটা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯০ মিনিটের খেলায় ৭৪ শতাংশ সময় বল ছিল স্পেনের দখলে। কিন্তু তাদের ৮ অন-শটের একটিও দেখেনি জালের মুখ। কেপ ভার্দেও পেয়ে যায় জয় সমতুল্য ড্র। এটা সম্ভব হয়েছে কেবল ভোজিনহার বীরত্বেই।

Manual6 Ad Code

শেয়ার করুন