Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি, বদলে যাবে চিত্র

admin

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ | ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ | ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটের রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি, বদলে যাবে চিত্র

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন কেন্দ্রিক রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন উদ্যোগ। বর্তমানে মিটারগেজ সিঙ্গেল লাইনের কারণে ট্রেন চলাচলে দীর্ঘ অপেক্ষা, শিডিউল বিপর্যয় ও ধীরগতির যাত্রা সিলেটবাসীর নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ডাবল লাইন চালু হলে বদলে যেতে পারে পুরো চিত্র।

বর্তমানে সিলেটের রেলপথ এখনো সিঙ্গেল লাইন মিটারগেজ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ট্রেন ক্রসিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। এ অবস্থায় সরকার ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটকে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এরইমধ্যে চলছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা।

ঐতিহাসিকভাবে সিলেটের রেলপথের যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে। চা শিল্প ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে ১৯১২ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে চালু হয় কুলাউড়া-সিলেট রেললাইন। পরে ১৯৫৪ সালে চালু হয় সিলেট-ছাতক রুট। এতে সিলেট স্টেশনের গুরুত্ব আরও বাড়ে। তবে করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যায় ছাতক রুটে ট্রেন চলাচল। এরপর ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় রেললাইন, যা এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি।

২০০৪ সালে পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন রূপ পায় সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। কদমতলীতে অবস্থিত এই স্টেশন বর্তমানে ঢাকা ও ছাতকের সঙ্গে মিটারগেজ লাইনে সংযুক্ত। সময়ের সঙ্গে এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ কেন্দ্রে পরিণত হলেও পুরোনো অবকাঠামো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Manual5 Ad Code

সম্প্রতি ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনের দাবিতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে মানববন্ধন করেছেন সচেতন নাগরিকরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রার সময় কমবে, বাড়বে ট্রেনের সংখ্যা ও যাত্রীসেবা।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নূরুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানান, বর্তমানে ঢাকা-সিলেট রুটে যাত্রা করতে যেখানে অন্তত ৮ ঘণ্টা সময় লাগে, ডাবল লাইন চালু হলে তা ১ থেকে ২ ঘণ্টা কমে আসবে। তিনি বলেন, ডাবল লাইন সিলেটের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।

টিকিট কালেক্টর রায়হান বিন ইসলাম সময় সংবাদকে জানান, ক্রসিংয়ের কারণে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়। ডাবল লাইন হলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে, টিকিটের চাহিদা বাড়বে, ট্রেনও বাড়বে।

Manual3 Ad Code

এদিকে বর্তমানে সিলেট-ঢাকা রুটে চারটি এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। সব মিলিয়ে ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেনেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সিলেটের রেল যোগাযোগ।

Manual7 Ad Code

অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষ তথ্য বলছে ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল। প্রতিদিন এসব আন্তঃনগর ট্রেনে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ যাত্রী যাতায়াত করছেন। এছাড়া ইঞ্জিন সংকটের কারণে তেলবাহী ট্রেন চলাচলও কমে এসেছে। আগে যেখানে ২০ থেকে ২২টি ট্রেন চলাচল করতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র পাঁচটিতে।

Manual2 Ad Code

সম্প্রতি সিলেট সফরে এসে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম ডুয়েল গেজ রেললাইন চালুর লক্ষ্যে সমীক্ষা চলছে। তিনি বলেন, ইঞ্জিন সংকট সমাধানের পাশাপাশি যাত্রীসেবার সঙ্গে পণ্য পরিবহনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, যাতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায়।

সবকিছু ঠিক থাকলে উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের শিডিউল বিপর্যয় ও ভোগান্তি পেছনে ফেলে এখন নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে সিলেটবাসী।

শেয়ার করুন