Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে আদলত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর ফের হামলা

admin

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০২:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০২:৩৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে আদলত চত্বরে ফাহিমা হত্যার আসামির ওপর ফের হামলা

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্ক:
সিলেটে আতদালত চত্বরে শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর ফের হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা এসময় জাকিরকে মারধর করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার সকালে জাকিরকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

Manual4 Ad Code

এরআগে ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকিরকে মারধর করে ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা।

বৃহস্পতিবারের হামলার ব্যাপারে জানা যায়, সকাল ১০ টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। আগে থেকেই আদালত চত্বরে অপেক্ষায় ছিলেন শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা। প্রিজন ভ্যান থেকে জাকিরকে আদালত ভবনে নেওয়ার সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান। এসময় পুলিশের হেফাজতে থাকা জাকিরকে মারধর করেন তারা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়।

তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে ফাহিমার এক চাচা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন। এতে ন্যায় বিচার নিয়ে আমরা শংকিত।

বারবার আদালত চত্বরে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে যথেষ্ট পুলিশী পাহারার মাধ্যমেই আদালতে আনা নেওয়া করা হয়। তারপরও কিভাবে হামলার ঘটনা ঘটলো আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

প্রসঙ্গত, গত ১১ মে রাতে ফাহিমাকে ধর্ষনচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।

এদিকে, শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামী করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে।

Manual3 Ad Code

নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।

হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।

অভিযুক্তরা ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা। তাদের মধ্যে জাকিরকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে।

গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে রাত ৪টার দিকে ফাহিমার লাশ ঘরের সামনে নুরুল হক নামের একজনের মালিকানাধীন ডোবায় ফেলে পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করেন জাকির।

Manual7 Ad Code

ভিকটিমের লাশ ডোবার পানিতে ভেসে ওঠায় আসামি ভিকটিমের লাশ পানি থেকে তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।

Manual7 Ad Code

তবে সম্প্রতি আদালতে তোলার সময় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে জাকির অভিযোগ করেছেন, পুলিশ জোর করে তার জবানবন্দি আদায়।
এরআগে গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। এসময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে লাশ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় লাশ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাকির।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। এই হত্যার ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন