Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে ডিসি সারওয়ারের ‘পাথরকাণ্ডে’ শুরু, ‘ডেগকাণ্ডে’ সমাপ্তি

admin

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে ডিসি সারওয়ারের ‘পাথরকাণ্ডে’ শুরু, ‘ডেগকাণ্ডে’ সমাপ্তি

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সদ্য প্রত্যাহারকৃত সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আগমনের শুরুটাও যেমন আলোচিত ছিল ঠিক তেমনি তার চলে যাওয়াটাও হচ্ছে তুমুল আলোচনার মধ্যদিয়ে। বলা যায়, সিলেটে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পাথরকাণ্ডে আগমনের শুরুটা করলেও তিনি শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগকাণ্ডে সিলেট থেকে সমাপ্তি হচ্ছে তাঁর।

Manual2 Ad Code

জানা যায়, সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে পাথর লুট ও পাথর চুরির ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। ঠিক সেই সময়ে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের ১৮ তারিখে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পান মো. সারওয়ার আলম। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর পরই শুরু হয় সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরের রূপ ফেরাতে পাথর লুটকারীদের বিরুদ্ধে তাঁর নিয়মিত অভিযান। দীর্ঘদিন অভিযান পরিচালনা করে পাথর লুটকারীদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ ঘনফুট পাথর ফিরিয়ে সাদাপাথরে প্রতিস্থাপন করে সিলেটসহ তথা দেশবাসীর মুখে প্রশংসায় ভাসেন তিনি।

Manual3 Ad Code

সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। নাগরিক সমস্যা সমাধান, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন তিনি। মহানগরীর ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, হকার উচ্ছেদ, সড়কে অবৈধ স্ট্যান্ড অপসারণ, অবৈধ দখল ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের কারণে একাধিকবার আলোচনায় আসেন তিনি।

Manual1 Ad Code

সর্বশেষ হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। এই ধারাবাহিকতায় শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগে সীলগালা করে প্রশাসনের বড়-ছোট কয়েকটি দান বাক্স স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে সেই দানবাক্সে আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসিটিভি স্থাপন করা হয়। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই দুই মাজার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এ পরিস্থিতির মধ্যেই চলে আসে তাঁর প্রত্যাহারের আদেশ।

রবিবার (২১ জুন) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

Manual4 Ad Code

ওই আদেশে বলা হয়, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে।

সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের মূল্যায়ন ও আলোচনা ছিল। তাঁর প্রত্যাহারের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এমনকি রবিবার বিকেলে সিলেট মহানগরীর কোর্ট পয়েন্ট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ডিসির প্রত্যাহার আদেশের প্রতিবাদে সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন করার খবর পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন