Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রী তাজমিনের সঙ্গে সেই রাতে কী ঘটেছিল, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সিএনজিচালক সুমন

admin

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৩৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
স্কুলছাত্রী তাজমিনের সঙ্গে সেই রাতে কী ঘটেছিল, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সিএনজিচালক সুমন

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেতের পাশ থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার হয়। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে। ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় ঘাতক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫) তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন।

Manual8 Ad Code

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সুমনের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ভাড়া করে তাজমিন। তবে পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে শহরের দিকে না গিয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে কিশোরীকে নিয়ে বিজরার দিকে রওনা হয় চালক। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে তাজমিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশের ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। কিশোরী দৌড়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা চালালেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে কাবু হয়ে পড়ে।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুমন স্বীকার করেছে, সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন তিনি। হত্যাকাণ্ড শেষে সুমন পাশের একটি পুকুরে গোসল করে এবং নিহতের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন হাতিয়ে নেয়। মুঠোফোনটি স্থানীয় একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশা ফেলে রেখেই চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায় সুমন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে চালক সুমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।

Manual4 Ad Code

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। আদালতে অভিযুক্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার ও উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যাচ্ছিল না। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সঙ্গে তিনি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে শেষবারের মতো কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। পরবর্তীতে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে সে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায়। তবে গভীর রাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি সময়মতো দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

Manual2 Ad Code

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর এলাকার ধানখেতের আইলের পাশে তাজমীনের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তার বাবা এসে মরদেহটি জান্নাতুল তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন।

Manual6 Ad Code

জানা যায়, রেনাটা পিএলসি কুমিল্লায় কর্মরত আবদুল আলীম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে জান্নাতুল তাজমিন। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত তাজমিন। সে কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

এদিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাগমারা এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
সুমনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শেয়ার করুন