Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রী তাজমিন হ ত্যা রহস্য উন্মোচন, যা বলছে পুলিশ

admin

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:০০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:০০ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
স্কুলছাত্রী তাজমিন হ ত্যা রহস্য উন্মোচন, যা বলছে পুলিশ

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন ছাড়া আর কেউ জড়িত ছিল না বলেও জানানো হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায় জেলা পুলিশ। কুমিল্লায় জান্নাতুল তাজমিন (১৩) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

Manual4 Ad Code

পুলিশ জানিয়েছে, জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কক্সবাজারের বাস থেকে পদুয়ারবাজার হোটেল নূরজাহানে নেমে শহরের রেইসকোর্স বাসায় যেতে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন ঘটনাস্থলে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। পুরো হত্যাকাণ্ড ও ঘটনা তিনি একাই সংগঠিত করেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

Manual4 Ad Code

পুলিশ আরও জানায়, তাজমিন হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ধর্ষণের পর সিএনজিতে থাকা গামছা পেচিয়ে হত্যা করে চালক সুমন। তিনি একাই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তার আগে রাতে বাস থেকে নেমে শহরের রেসকোর্স বাসায় ফিরতে ওই অটোরিকশায় ওঠে তাসনিম। গভীর রাতে একা পেয়ে ফন্দি আঁটে চালক সুমন। তাকে নিয়ে শহরে না ফিরে ভিন্ন উল্টো পথে অটোরিকশা চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে বিষয়টা বুঝতে পেরে অটোরিকশায় থেকেই লাইভ লোকেশন ও হোয়াটসঅ্যাপে বাবাকে মেসেজ পাঠায় তাসনিম। এ সময় অটোরিকশাটি বিজরা হয়ে রসুলপুর ও শিকারীপাড়া দিয়ে জগতপুর ঘটনাস্থলে যায়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যায়নি বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করছেন। তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। গত ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সবশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। ওইদিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে তার লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যেতে ম্যাসেজ পাঠায়। গভীর রাত বাবা ঘুমিয়ে থাকায় মেসেজটি দেখতে পাননি।

পরদিন সকালে অজ্ঞাত হিসেবে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় শনাক্ত হয়। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পর নিহত তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

Manual3 Ad Code

শেয়ার করুন