Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে মহব্বত খু ন: ৩ বছর পর ফোনালাপে মিলল হ ত্যা র সূত্র

admin

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:১১ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
হবিগঞ্জে মহব্বত খু ন: ৩ বছর পর ফোনালাপে মিলল হ ত্যা র সূত্র

Manual7 Ad Code

মাধবপুর প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের মাধবপুরে আলোচিত মহব্বত আলী (৩৯) হত্যা মামলার দীর্ঘ তিন বছর পর চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একটি ফোনালাপের সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হয়। পুলিশের দাবি, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে ক্ষোভের জেরে মহব্বতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

Manual6 Ad Code

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে জুলাই মাসে উপজেলার রামনগর গ্রামের ভুক্তভোগী মহব্বত আলীর সঙ্গে অভিযুক্ত শাহ আলমের ভাতিজির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে মহব্বত শাহ আলমের স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে শাহ আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হন। পরে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মহব্বতকে নিজেদের বাড়িতে ডেকে আনেন জাহানারা বেগম। বাড়িতে লোকজন আসার অজুহাতে তাঁকে একটি ওয়ারড্রবের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে ওয়ারড্রবের ভেতরেই শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে গত শুক্রবার মহব্বতের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

Manual5 Ad Code

দীর্ঘ তিন বছর ঘটনাটি আড়ালে ছিল। সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে ঝগড়ার সময় শাহ আলম বলেন, ‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু।’ ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ডিবির হাতে পৌঁছালে তদন্তে নতুন সূত্র মেলে।

Manual1 Ad Code

মাধবপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, একটি ফোনালাপের রেকর্ডের সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্র মেলে। পরে অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

Manual3 Ad Code

এরপর গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—একই গ্রামের শাহ আলম (৩৪), তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৪), প্রতিবেশী জয়নাল মিয়া (২১) ও ইয়াছিন মিয়া (২৪)। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপটিক ট্যাংক থেকে মহব্বতের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৮ আগস্ট মহব্বতের বাবা মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। শুরুতে মাদকসংক্রান্ত বিরোধকে হত্যার কারণ বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে তদন্তে সামনে আসে প্রেমের সম্পর্ক ও পারিবারিক ক্ষোভের বিষয়টি। উদ্ধার করা কঙ্কাল ডিবি হেফাজতে রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা।

শেয়ার করুন