Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান : এবার নতুন দ্বন্দ্বে নওয়াজের দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা

admin

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০৩:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০৩:০৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
পাকিস্তান : এবার নতুন দ্বন্দ্বে নওয়াজের দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অনিশ্চয়তা চলার পর এ ইস্যুতে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মধ্যে যখন সমঝোতা চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, সে সময়েই নতুন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন পিএমএলএনের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের একাংশের ভাষ্য, পাকিস্তান এখন সার্বিকভাবে খুই টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে এবং এখন সরকার গঠনের মানে হলো ‘স্বেচ্ছায় মাথা কাঁটার মুকুট’ পরা। পিএমএলএনের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা খাজা সাদ রফিক দলের এই অংশের নেতৃত্বে রয়েছে।

Manual3 Ad Code

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শুক্রবার খাজা সাদ রফিক বলেন, ‘পিটিআই যেহেতু সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে, তাই তাদেরই উচিত পিপিপির সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করা। দেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি, তাতে এই মুহূর্তে সরকার গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার মানে হলো নিজের মুকুটকে কাঁটা দিয়ে সজ্জিত করা এবং আমরা মনে করি, পিএমএলএনের এমন কোনো ইচ্ছে নেই।’

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির মোট আসন ২৬৬টি। এসব আসনের একটি ব্যতীত বাকি ২৬৫টি আসনে নির্বাচন হয়েছে গত ৮ ফেব্রুয়ারি। এটি ছিলো পাকিস্তানের ১৬তম পার্লামেন্ট নির্বাচন।

সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী, পাকিস্তানে কোনো দল বা জোট যদি সরকার গঠন করতে চায়— তাহলে সেই দল বা জোটকে অবশ্যই ১৩৩টি আসনে জয়ী হতে হবে। তবে ৮ তারিখের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পিটিআই, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন (পিএমএলএন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)— দেশটির প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে পিটিআই। মোট ৯২টি আসনে জয়ী হয়েছেন পিটিআই প্রার্থীরা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পিএমএলএন জয়ী হয়েছে মোট ৭৯টি আসনে এবং ৫৪টি আসন পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পিপিপি। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য ন্যুনতম যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, তা পায়নি কোনো দলই।

Manual7 Ad Code

ফলে অভূতপূর্ব এক অনিশ্চয়তা দেখা দেয় পাকিস্তানের রাজনীতিতে। এই সংকট কাটানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সমাধান ছিল যে কোনো দু’টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জোট সরকার গঠন করা, কিন্তু কোন দুই দল জোট গঠন করবে— তা নিয়ে গত ৯ দিন ধরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক নাটকীয়তা পরিলক্ষিত হয়েছে। এমনকি উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে নেবে— এমন গুঞ্জনও শুরু হয়েছিল।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার লাহোরে পিএমএলএনের উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শেহবাজ শরিফ, মরিয়ম নওয়াজ, ইসহাক দার, মরিয়ম আওরঙ্গজেব, খাজা সাদ রফিক, আজম নাজির তারার, আয়াজ সিদ্দিকীসহ আরও কয়েক জন জ্যেষ্ঠ নেতা।

সেই বৈঠকে খাজা সাদ রফিকসহ কয়েক জন নেতা অভিমত দেন, পিএমএলএনের উচিত কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টে সরকার গঠনের পরিবর্তে পাঞ্জাব প্রাদেশিক আইনসভায় সরকার গঠনের প্রতি মনযোগী হওয়া। কারণ পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার গঠনে নেতৃত্ব দিলে দলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে।

শেহবাজ শরিফ, মরিয়ম নওয়াজ বা মরিয়ম আওরঙ্গজেব বৈঠকে তাৎক্ষণিকভাবে এর জোরালো বিরোধিতা করেননি। উপরন্তু পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী ইসাক দার জানিয়েছেন, পাঞ্জাবে প্রাদেশিক সরকার গঠনের জন্য পিএমএলএন বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

তবে শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের দৈনিজ জংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিএমএলএনের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা আহসান ইকবাল বলেন, দেশকে স্থিতিশীল করতে পিএমএলএন জোট সরকার গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দলের নীতির সঙ্গে কোনো প্রকার আপস না করেই এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে পিএমএলএন।

Manual7 Ad Code

‘আমরা আমাদের নীতির প্রতি কঠোরভাবে অনুগত থাকব এবং একই সঙ্গে পাকিস্তানের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবো,’ দৈনিক জংকে বলেন আহসান।

Manual4 Ad Code

শেয়ার করুন