স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার দাবীতে এবার স্মারকলিপি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী।
রবিবার (২৪ আগস্ট) সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর পক্ষে এ স্মারকলিপি জমা দেন বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর জামায়াত নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক জনকল্যাণমূলক এই কাজ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব সিলেটের লাখো মানুষ উপকৃত হবে। তাছাড়া এই সড়কটি বিয়ানীবাজার এবং নিকটবর্তী গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দাদের বিভাগীয় নগরী সিলেটের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সিলেট থেকে সুতারকান্দি পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ককে চারলেনের মহাসড়কে উন্নীত করণের লক্ষ্যে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। যার মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ হলো ২ হাজার ৮৮৬ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের অধীনে অতিরিক্ত ২টি সার্ভিসলেন, ৩টি সেতু, ৩১টি কালভার্ট, ১টি ফ্লাইওভার, ৪টি ফুট ওভারব্রিজ, ৬টি ওভারপাস, ২টি আন্ডারপাস, ৭টি ফুটপাত ও ১টি টোলপ্লাজা স্থাপনের কথা। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর উপর শেওলা সেতুর স্থলে ৬০ মিটার দীর্ঘ, ২১ মিটার প্রশস্ত, ৪০ মিটার উঁচু নতুন একটি সেতু নির্মাণের নকশা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই প্রস্তাবে।
একটি সূত্র জানায়, গত ২৯ এপ্রিল সিলেট জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে যুক্ত চার লেন সেতু ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, সীমান্তবর্তী দুই উপজেলার অল্প কিছু যাত্রী পরিবহন ছাড়া এ পথে বড় ধরনের যান চলাচল নেই। তাই আপাতত চার লেন সড়ক নির্মাণ জরুরি নয় এবং এতে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটতে পারে। এই মতামত জেলা প্রশাসক গত ৮ মে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। এমন সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে চার উপজেলার মানুষ ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, নায়েবে আমীর আবুল খায়ের ও মোস্তফা উদ্দিন, সেক্রেটারী কাজী আবুল কাশেম, পৌর আমীর হাজী জমির হোসাইন প্রমুখ।