Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঈনুল রোডের সেই বাড়িটিই খালেদা জিয়ার শেষ স্থায়ী ঠিকানা

admin

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৪:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৪:১৫ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
মঈনুল রোডের সেই বাড়িটিই খালেদা জিয়ার শেষ স্থায়ী ঠিকানা

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের যে বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল, সেই ঠিকানাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করেছেন বিএনপির প্রয়াত সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামাতেও তিনি এই ঠিকানাই উল্লেখ করেছিলেন।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১—এই তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জমা দেওয়া নথিতে খালেদা জিয়া ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের ওই বাড়িটিকেই নিজের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও স্থাবর সম্পত্তির বিবরণীতে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বাড়িটি তার মালিকানায় বা দখলে নেই।

Manual7 Ad Code

এই মঈনুল রোডের বাড়িটি শুধু একটি বাসভবন ছিল না; বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নীরব সাক্ষীও ছিল এটি। ১৯৭২ সালে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি হলেও তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এখানেই অবস্থান করেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বন্দিত্ব এবং ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব—এই দুই ঘটনাও ঘটে এই বাড়ির প্রাঙ্গণেই। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণের পর জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বার্ষিক মাত্র এক টাকা খাজনার শর্তে বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর প্রায় তিন দশক ধরে এই বাড়িই ছিল তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-দুঃখের নীরব সাক্ষী।

২০১০ সালের নভেম্বরে এক নাটকীয় উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে ৩৮ বছরের স্মৃতিবিজড়িত এই বাসভবন থেকে খালেদা জিয়াকে বের করে দেওয়া হয়। সে দিন প্রয়োজনীয় মালামাল নেওয়ারও সুযোগ পাননি তিনি। এক কাপড়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া এবং কান্নায় ভেঙে পড়ার সেই দৃশ্য সারা দেশে আলোড়ন তোলে।

Manual5 Ad Code

পরবর্তীতে ওই বাড়িটি ভেঙে ফেলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমানে সেখানে সেনানিবাসের কর্মকর্তাদের জন্য ১৪ তলা একটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

শহীদ মঈনুল রোডের বাড়িটি কেবল একটি ইটের দালান ছিল না। এটি ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এক টুকরো ইতিহাস। এখানে বেড়ে উঠেছেন তাঁর সন্তানেরা, জমা ছিল তাদের দীর্ঘ দাম্পত্যের হাজারো স্মৃতি।

গত কয়েক বছর গুলশানের ‘ফিরোজা’য় কাটলেও খালেদা জিয়ার মনের কোণে হয়তো মঈনুল রোডের সেই বারান্দাটি রয়ে গিয়েছিল। তার পুরোনো কর্মীরা মনে করেন, বাড়িটি হারানোর শোক তিনি কোনো দিন কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক নুরুল আমিনের ভাষায়, ‘ওই বাড়িটা খুব সাদামাটা সাধারণ একটি বাড়ি ছিল। কিন্তু ওই যে ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) থাকতেন ওখানে, তারেক রহমান আর আরাফাত রহমান কোকো থাকতেন, তাই ওটা তো হয়ে উঠছিল রাজকীয় বাড়ি, বলতে গেলে ওটা ছিল প্রাসাদ।’

Manual6 Ad Code

পারিবারিক বন্ধনের স্মৃতি তো আছেই, এর বাইরে এই বাড়ি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলেরও (বিএনপি) ‘আঁতুড়ঘর’ বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বাড়িটি।

শেয়ার করুন