Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সুদ’ থেকে আয়ের টাকা কেউ কেউ দান করে দিতেও পারে: তাহেরি

admin

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
‘সুদ’ থেকে আয়ের টাকা কেউ কেউ দান করে দিতেও পারে: তাহেরি

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরি।

সম্প্রতি তার নির্বাচনী হলফনামার কিছু তথ্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে আয়ের একটি খাতে ‘সুদ’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন তাহেরি।

তিনি দাবি করেন, পুরো বিষয়টি একটি ভুল বোঝাবুঝি এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়িয়েছে।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা ও কৃষি। হলফনামায় তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ দেখানো হয়নি।

হলফনামা থেকে জানা যায়, তাহেরির পেশা ব্যবসা এবং তার স্ত্রী গৃহিণী। সব সম্পদই তাহেরির নিজের নামে রয়েছে; স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নেই। এমনকি স্ত্রীর নামে কোনো স্বর্ণালংকারও দেখানো হয়নি। তবে তাহেরির নিজের নামে ৩১ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।

আয়ের খাত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন—কৃষি থেকে বছরে আয় ২৬ হাজার ৪০০ টাকা, ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং বন্ড, সঞ্চয়, আমানত ও ব্যাংক সুদ বাবদ আয় ২২ হাজার ৮৯২ টাকা।

এই একই কলামে বন্ড, সঞ্চয়পত্র, আমানত ও সুদ একসঙ্গে উল্লেখ থাকলেও গণমাধ্যমে কেন শুধু ‘সুদ’-এর বিষয়টি আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে, সে প্রশ্ন তুলেছেন তাহেরি।

তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কলামে ব্যাংকে রাখা টাকার পরিমাণ এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত মুনাফা—দুটিই উল্লেখ করার নিয়ম রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হলেও তার কাছ থেকে কেউ জানতে চাননি এই আয় আসলে কোন খাত থেকে এসেছে।

Manual7 Ad Code

তাহেরির ভাষায়, ‘নির্বাচন কমিশনের কলামে বন্ড, সঞ্চয়, আমানত ও সুদ—সবই একসাথে আছে। আমি কি আলাদা করে শুধু সুদের ওপর টিক চিহ্ন দিয়েছি? যারা এটি প্রচার করেছে, তারা আমার কাছ থেকে না জেনেই করেছে।’

তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘একটা মানুষ কিন্তু দেখেন সুদের টাকা জমা হয়, এমনও তো হতে পারে যে কেউ সুদের টাকাটা অন্য কোথাও সওয়াবের আশা না করে দিয়ে দিল! সে এটা দিয়ে যেটা করল করল। এটা আমাকে জিজ্ঞেস করল না। আমি এটা কোন কারণে, কোন প্রেক্ষাপটে জমা হয়েছে, সেটাও আমাকে জিজ্ঞেস করল না!’ কেন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে আমাকে গায়ে পড়ে, ঈর্ষান্বিত হয়ে, কিছু কিছু মানুষ আমাকে টার্গেট করে মনে হচ্ছে, এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করেছিল!’

Manual4 Ad Code

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের হলফনামার কাঠামো নিয়েও মন্তব্য করেন তাহেরি। তার মতে, বন্ড, সঞ্চয়, আমানত ও সুদের জন্য আলাদা আলাদা কলাম থাকলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যেত।

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, ‘একই কলামে সব একসাথে না রেখে আলাদা কলাম থাকলে কোন প্রেক্ষাপটে এবং কোন উদ্দেশ্যে অর্থ এসেছে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হতো।’

‘এখানে ৪-৫টা বিষয় দেওয়ার পরও কেবল সুদটাই তুলে নিয়ে আসলেন, এটা কোন খেলা আমি বুঝলাম না ভাই! ৩০০ আসনের প্রার্থী তো হলফনামায় এটা উল্লেখ করেছে! আমার তো মাত্র ২২ হাজার ছিল, এখানে তো ৫ লক্ষ, ৭০ হাজার, ৯০ হাজার অনেকের অনেক টাকা এখানে উল্লেখ আছে। আপনি তাদেরটা ধরলেন না, আমারটা ধরলেন!’

Manual8 Ad Code

শেয়ার করুন