Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড়লেখার সালেহকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবার

admin

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
বড়লেখার সালেহকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবার

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী (৫৫)-কে হারিয়ে পরিবারে চলছে কান্নার রোল। আকস্মিক এই মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারটি দিশাহারা হয়ে পড়েছে। সালেহের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর স্ত্রী, সন্তানসহ স্বজনরা।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সালেহ আহমদ ওরফে আহমদ আলী নিহত হন। পরদিন রোববার (১ মার্চ) দুপুরে দেশে থাকা স্বজনরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান। এরপর থেকে সালেহের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত সালেহ বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে।

Manual3 Ad Code

এদিকে সোমবার (২ মার্চ) সকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিহত সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী আহমদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি মুঠোফোনে নিহতের পরিবারকে শান্তনা দেওয়ার পাশাপাশি লাশ দেশে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন।

সরেজমিনে সালেহের বাড়ি গাজিটেকা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সালেহের পরিবারে তাঁর মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।  তাকে হারিয়ে তারা আহাজারি করছেন। এলাকার লোকজন তাঁদের বাড়িতে ভিড় করেছেন। স্বজনরা তাদের শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

Manual6 Ad Code

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমদ আলী জীবিকার তাগিদে প্রায় ২৭ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি আজমান শহরে বসবাস করতেন এবং পানি সরবরাহের গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত শনিবার ইফতারের পর পানি সরবরাহ করতে গিয়ে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর গাড়িতে পড়ে। এতে সালেহসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা সালেহকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সালেহের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Manual1 Ad Code

সালেহের বড় ছেলে আব্দুল হক সোমবার বিকেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ইফতারের পর আমার বাবার কাছে পানি সরবরাহের একটি অর্ডার আসে। অর্ডার পেয়ে তিনি গাড়ি নিয়ে গন্তব্যে রওনা দেন। কিন্তু হঠাৎ ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র আমার বাবার গাড়িতে এসে আঘাত হানে। এতে তিনিসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আমার বাবা মারা যান। তিনি বলেন, সরকারসহ সবার কাছে এখন একটাই চাওয়া-আমার বাবার মরদেহ যেন দ্রুত দেশে আসে।

Manual7 Ad Code

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী সোমবার বিকেলে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড়লেখার এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। আমরা তাঁর বাড়িতে গিয়েছি এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি যে সেখানে মিসাইলের আঘাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া গেলে বিস্তারিত বলা যাবে।

তিনি বলেন, লাশ দেশে আনার জন্য নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দূতাবাসে আবেদন করা হয়েছে। দূতাবাস থেকে তাঁদের পরিবারকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে যেহেতু যুদ্ধকালীন অবস্থার মধ্যে দেশগুলো রয়েছে, সেকারণে কিছু সময় হয়তো লাগতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। যেকোনো সমস্যায় প্রশাসন তাঁদের পাশে থাকবে।

শেয়ার করুন