Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭

admin

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২০ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭

Manual7 Ad Code

ডিজিটাল ডেস্ক :
রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদাবাজি ও চিকিৎসককে হেনস্তা করার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি মামলার প্রধান অভিযুক্ত মঈনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

রোববার দিবাগত রাতে নড়াইল ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব জানায়, এই মামলার মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইল জেলার কালিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. স্বপন কাজী (৩৬) ও মো. শাওন হোসেন (২৫)। দেশজুড়ে সমাদৃত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই তড়িৎ পদক্ষেপ জনমনে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে, যখন সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালে প্রবেশ করে মব বা অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মঈন উদ্দিন তার দলবল নিয়ে ভেতরে ঢুকে হাসপাতালের কর্মকর্তাদের হুমকি দিচ্ছেন এবং নিয়ম ভেঙে জোরপূর্বক অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করছেন।

Manual1 Ad Code

এ সময় হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ আবু হানিফকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার দৃশ্যও ধরা পড়ে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত শনিবার শেরেবাংলা নগর থানায় মঈনকে এক নম্বর আসামি করে অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ নিজেই বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন।

Manual4 Ad Code

ভুক্তভোগী হাসপাতাল সূত্র এবং অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মঈন উদ্দিন নানাভাবে ডা. কামরুলকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। অভিযুক্ত মঈন জোরপূর্বক হাসপাতালে মেডিকেল সরঞ্জাম, চালসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন।

এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং হাসপাতালে কর্মরত সাবেক সরকার সমর্থক কর্মীদের বের করে দেওয়ার জন্য চিকিৎসককে ভয়ভীতি দেখান। ডা. কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এর আগে দুই দফা হুমকির পর তিনি স্থানীয় পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। মঈন উদ্দিন প্রায়ই ৫০-৬০ জন লোক নিয়ে হাসপাতালের সামনে মহড়া দিতেন এবং চিকিৎসকের নামে মিথ্যা কুৎসা রটাতেন।

বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। র‍্যাব জানিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত করা বা কোনো স্বনামধন্য চিকিৎসকের ওপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন