Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশ হেফাজতে

admin

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:০৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:০৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
চট্টগ্রামে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশ হেফাজতে

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় লিলি আকতার (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর এলাকার বোচা তালুকদারের বাড়ির সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানার ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

Manual1 Ad Code

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, শাশুড়ি ও ননদ মিলে লিলিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার করছেন।

Manual3 Ad Code

গৃহবধূ লিলি আকতার ওই এলাকার মৃত লোকমান আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানার ছেলে মো. মহিউদ্দিনের স্ত্রী। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। লিলি একই ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক শাহ্ বাড়ি এলাকার মৃত কামাল উদ্দিন শাহর মেয়ে। ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।

Manual4 Ad Code

এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী মো. মহিউদ্দিনকে (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ আল নোমান।

Manual8 Ad Code

তিনি বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন শাহ অভিযোগ করে বলেন, ৯ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি, স্বামী ও ননদ লিলিকে নির্যাতন করত। বোনের সুখের কথা চিন্তা করে আমরা তাকে সান্ত্বনা দিতাম। তারপরও শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতন থামেনি। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে প্রায়ই আমার বোন আমাদের বাড়িতে চলে আসত। কয়েকদিন আগেও শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতনে বাবার বাড়িতে চলে আসে। গতকাল রাতে স্বামী মহিউদ্দিনসহ বাকিরা মিলে আমার বোনকে মারধর করে এবং আমাকে ফোন করে বলে, তোদের বোনকে নিয়ে যাও, না হলে মেরে ফেলব। আমরা মনে করেছিলাম তারা রাগের মাথায় এসব বলছে। আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আমাদের বাড়িতে লিলির শাশুড়ি ও ননদ গিয়ে বলে আপনাদের বোন আত্মহত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিক আমি ছুটে এসে দেখি আমার বোন মৃত অবস্থায় খাটে শুয়ে আছে। তখন তাদেরকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ঝুলন্ত অবস্থা থেকে আমার বোনকে কে নামিয়েছে? তারা আমার প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি। এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর বিচার চাই।

জানতে চাইলে নিহতের ননদ মর্জিনা সুলতানা বলেন, ভাবির সঙ্গে আমাদের কোনো মনোমালিন্য ছিল না। মাঝেমধ্যে ভাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হতো। রাগের মাথায় বাপের বাড়ি ও ভাড়াবাড়িতে চলে যেতে বললে ভাবি বলত, আমার শ্বশুরের ঘর থেকে কোথাও যাব না। আমার শ্বশুর এ বাড়িতে আনছে, মরলে এ বাড়িতেই মরব। তার জেদ ছিল বেশি, কেউ ভয়ে কিছু বলত না।

ভুক্তভোগীর শাশুড়ি সাবেক ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানা বলেন, “তে একটু ঝগড়া হয়েছে। তার স্বামী সন্তানদের নিয়ে দ্বিতীয় তলায় ঘুমাতে চলে যায়, রুমে সে একাই ছিল। সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে তাকে ডাকতে গেলে দেখি সে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। তখন আমি আর আমার মেয়ে তার বাবার বাড়িতে খবর দিতে ছুটে যাই।

শেয়ার করুন