Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে হাত আর বাঁশ দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

admin

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ | ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে হাত আর বাঁশ দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় হাতের ইশারায় সড়কে চলাচলকারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন একজন ট্রাফিক পুলিশ।

Manual8 Ad Code

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে প্রায় ৩০ বছর আগে সিলেট শহরের বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিক সিগনাল বাতি স্থাপন করা হয়। তবে স্থাপনের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাতিগুলো এক দিনের জন্যও কাজে লাগেনি। এমনকি এগুলো কখনো জ্বালানো হয়নি। এরই মধ্যে পৌর শহর সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। অথচ নগরীর যানবাহনগুলো এখনো চলাচল করে ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায়।

Manual5 Ad Code

জানা গেছে, নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে প্রতিদিন শিফট অনুযায়ী দুই থেকে চারজন করে ট্রাফিক পুলিশ ডিউটি করেন। ট্রাফিক সিগনাল বাতি না থাকায় রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ের মধ্যেও তাদের কর্তব্য পালন করতে হয়। যেসব এলাকায় যানবাহনের চাপ বেশি, সেখানে ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারা খুব বেশি ফলপ্রসূ হয় না। তখন বাঁশ দিয়ে ডিভাইডার বানিয়ে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এই পদ্ধতিকে স্থানীয়রা ‘বাঁশ বেড়’ বলে থাকেন। কোথাও কোথাও লোহার ব্যারিকেডও দিতে দেখা যায়।

Manual2 Ad Code

জানা যায়, ১৯৯৬ সালে সিলেট পৌরসভার ‘মাঝারি শহর উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য ছয়টি ব্যস্ততম পয়েন্টে ট্রাফিক সিগনাল বাতি স্থাপন করা হয়। ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে চৌহাট্টা, রিকাবিবাজার, নয়াসড়ক, সুরমা মার্কেট, নাইওরপুল ও আম্বরখানা পয়েন্টে সিগনাল বাতি স্থাপন করা হয়। কিন্তু এসব বাতি আজ পর্যন্ত কখনো ব্যবহার হয়নি। বর্তমানে সিলেট নগরীতে এসব বাতির কোনো অস্তিত্ব নেই।

সিসিক থেকে যা জানা গেল
সিসিকের প্রকৌশল শাখা থেকে জানা গেছে, প্রথম দিকে ট্রাফিক পুলিশের আপত্তি, অর্থাভাব ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিগনাল বাতিগুলো চালু করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি বাজেটে এগুলো সংস্কারের জন্য আলাদা খাত রাখা হলেও বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।

সিসিকের সড়কবাতি পরিচালনার সঙ্গে সিগনাল বাতিগুলো পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা সম্ভব হয়নি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘সিসিকের বাজেট ঘোষণার সময় আমরা অনেক খাতই সংযুক্ত করি। কিন্তু তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরকার থেকে বরাদ্দ না পেলে এই কাজগুলো করা যায় না।’

Manual6 Ad Code

এসএমপির উপ-কমিশনারের বক্তব্য
এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি, ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, সিলেটের মতো বড় শহরের সড়কে সিগনাল বাতি থাকা প্রয়োজন। এই সার্ভিস চালু হলে আমাদের পুলিশ সদস্যদের কাজ সহজ হতো। সিলেটে এখন সিগনাল বাতি নেই। তার ওপর এখানকার ‘রোড ইঞ্জিনিয়ারিং’ সঠিক নেই। যত্রতত্র চত্বর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু নগরীর উন্নয়ন কাজ সিটি করপোরেশন তদারকি করে, তাই সাম্প্রতিক সময়ে আমরা সিগনাল বাতিসহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বেশ কয়েকদফা আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে—সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে। তবে এ বিষয়টি একটু সময় সাপেক্ষ। কারণ এসব বিষয় প্রকল্প আকারে সরকারের পক্ষ থেকে পাস করাতে হয়। আমরা আশা করব, দ্রুত সময়ের মধ্যে নগরীকে সিগনাল বাতির আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

শেয়ার করুন