Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু ফাহিমা হত্যা : জাকির ও তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

admin

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৪:২৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ | ০৪:২৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
শিশু ফাহিমা হত্যা : জাকির ও তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান করেছে পুলিশ। চার্জশিটে এই মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

শুক্রবার দুপুরে এ তথ্য জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজরুল আলম।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে এ চার্জশিট প্রদান করা হয়। চার্জশিটে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া লাশ গুমে জাকিরকে সহযোগিতার জন্য তার দু্ই ভাই জয়নাল ও কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা সকলে ফাহিমাদের প্রতিবেশি ও সম্পর্কে চাচা। এদের মধ্যে জাকিরকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর এলাকাবাসী দু’ দফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এই ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।

Manual8 Ad Code

১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। ওই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে সেটি সরিয়ে বাড়ির নিচে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাকির।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।

Manual1 Ad Code

এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সংসদের বিরোধী দলয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি ফাহিমাদের বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

Manual7 Ad Code

শেয়ার করুন