Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনবলসংকটে ধুঁকছে সিলেটের স্বাস্থ্য খাত

admin

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
জনবলসংকটে ধুঁকছে সিলেটের স্বাস্থ্য খাত

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটে তীব্র জনবল সংকটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত চলছে ধুঁকে ধুঁকে। চালানোর মত দক্ষ লোক না থাকায় অনেক স্থানে এক্সরে মেশিনসহ বিভিন্ন দামি যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে যাচ্ছে। সিলেট বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৫২ ভাগ ডায়াগনোস্টিক ও জটিল চিকিৎসা সরঞ্জাম পুরোপুরি অব্যবহৃত রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে আংশিক সচল থাকলেও নানা অজুহাতে এগুলো ব্যবহার হয় না।

Manual7 Ad Code

সিলেটের সর্বোচ্চ চিকিত্সাকেন্দ্র সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ৫০০ বেডের। ৭০০ বেড দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া হয় কোনো রকমে। কিন্তু ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। এই হাসপাতালে কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও সবগুলোর সঠিক ব্যবহার হয় না। প্রায়ই রেডিওলজি বিভাগের সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ব্যাকআপ না থাকায় এগুলো নষ্ট হলে ঢাকা থেকে লোক এসে মেরামত করেন। এতে সময়ক্ষেপণ হয় এবং দুর্ভোগ বাড়ে।

সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘যন্ত্রপাতি নষ্ট হবে, মেরামতও হবে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। তবে ৫২ বছর আগের ৫০০ বেডের জনবল নিয়ে ৩ হাজারেরও বেশি রোগীকে সেবা দিতে হয়। রোগী এলে তো ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। তাই সবাইকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে ডাক্তার, নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতি রাতে ভর্তি রোগীসহ অন্তত ৭ হাজার লোক রাতে থাকেন এ হাসপাতালে। লোকজন কাজ করেও কুলিয়ে উঠতে পারে না। তার পরও হাসপাতালটি সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’ পরিচালক বলেন, এরই মধ্যে শিশু হৃদ রোগীদের জটিল অপারেশন ও অন্য রোগীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু অর্জনটা দেখা যায় না লোকবল সংকটসহ নানা কারণে।

Manual8 Ad Code

জেলার ৩৬টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র: সূত্র মতে, সিলেট বিভাগের চার জেলার ৪০টি উপজেলায় ৩৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা সদরে ২৫০ বেডের সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মধ্যে এক্সরে মেশিন, ইসিজি, এনালাইজার, আলট্রাসনো গ্রাম মেশিন থাকলেও চালানোর লোক নেই। তাই মেশিনগুলো অবহেলায় পড়ে আছে। এদিকে খোদ বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসেই ওপরের দায়িত্বগুলো পালনের জনবল সংকট। বিভাগীয় পরিচালক ও একজন মাত্র সহকারী পরিচালক চার জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছেন।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীম বলেন, এসব বিষয় ওপর মহলকে অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে আশা করি। হবিগঞ্জ জেলায় স্বাস্থ্য সহকারী পদে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কমপ্লেক্সে সনোলজির মেশিন আছে। পোস্ট নেই। রোগীরা এ সেবা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগে সব গ্রেডের বিভিন্ন পদে মঞ্জুরিকৃত পদের সংখ্যা ৮ হাজার ৪১১ টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৪ হাজার ৮৫৫ জন। অর্থাৎ শূন্য পদের সংখ্যা ৩ হাজার ৫৫৬টি। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা যাচ্ছে সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ টেকনোলজিস্ট পদের জনবলসংক্রান্ত তথ্যে। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদের সংখ্যা ১১৭টি। এর মধ্যে ৭১টি পদ শূন্য। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত নিজস্ব গতিতে চলতে পারে না। তাই সরকারকে এদিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

Manual6 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

শেয়ার করুন