Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘দেবী দুর্গার আবির্ভাব প্রসঙ্গে’ দেওয়া রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ‘সংশোধন’ চায় জমিয়ত

admin

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
‘দেবী দুর্গার আবির্ভাব প্রসঙ্গে’ দেওয়া রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ‘সংশোধন’ চায় জমিয়ত

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আপত্তি প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বক্তব্যে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সাংবিধানিক দায়িত্বশীলতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

Manual3 Ad Code

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এ প্রতিক্রিয়া জানান। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানা যায়।

Manual8 Ad Code

তিনি বলেন, ইসলামি আকিদা অনুযায়ী মহান আল্লাহ তাআলাই সমগ্র বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা বা রক্ষাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা কোনো ব্যক্তির বক্তব্যে এমন শব্দ বা বক্তব্য ব্যবহার করা উচিত নয়, যা দেশের বিপুলসংখ্যক মুসলিম নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ। সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার পালনের অধিকার রাখেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে। তবে ধর্মীয় সম্প্রীতির নামে কোনো ধর্মের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায় না।

Manual7 Ad Code

জমিয়ত সভাপতি রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সংশ্লিষ্ট অংশটি পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করে এমন কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড যেন দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন নেমে এসেছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটেছিল। দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।’ বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে। তবে প্রতিবারই বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সেই অশুভ শক্তিকে পরাজিত করেছে।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি রমনা কালীমন্দির প্রসঙ্গে বলেন, ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকেই মন্দিরটিকে তার হারানো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Manual7 Ad Code

শেয়ার করুন