Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ১লা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে উঠছে পৃথিবী? যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

admin

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০১:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০১:১৫ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
প্রতি ২৬ সেকেন্ডে কেন কেঁপে উঠছে পৃথিবী? যা বলছেন বিজ্ঞানীরা

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্ক:
নিয়মিত বিরতিতে কেঁপে ওঠে পৃথিবী। ঠিক প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর সৃষ্টি হয় এক ধরনের ছন্দময় ভূকম্পন। এতটাই সূক্ষ্ম এই কম্পন যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা অনুভব করা সম্ভব নয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপিত অত্যাধুনিক ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্রে ধরা পড়েছে এই অস্বাভাবিক সংকেত। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এর কারণ অনুসন্ধান করলেও এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর এই রহস্যময় স্পন্দন নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। খবর এনডিটিভির।

এই অদ্ভুত কম্পন প্রথম শনাক্ত করেন ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী জ্যাক অলিভার। ষাটের দশকের শুরুর দিকে গবেষণার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সিসমোমিটারে নির্দিষ্ট বিরতিতে একই ধরনের কম্পন রেকর্ড হচ্ছে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হয়, এর উৎপত্তিস্থল নিরক্ষীয় আটলান্টিক মহাসাগরের কোনো একটি অঞ্চল। এমনকি বছরের নির্দিষ্ট কিছু মৌসুমে এই কম্পনের তীব্রতাও বেড়ে যায়।

তবে সে সময় পর্যাপ্ত প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ না থাকায় রহস্যটির সমাধান করতে পারেননি অলিভার। ফলে দীর্ঘদিন বিষয়টি বিজ্ঞানীদের আলোচনার আড়ালে থেকে যায়।

Manual3 Ad Code

২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকেরা ডিজিটাল ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের সময় আবারও এই অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করেন। গবেষক মাইক রিটজওলারের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা এমন একটি সংকেত পান, যা ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক, নিয়মিত এবং দীর্ঘস্থায়ী। পরবর্তী বিশ্লেষণে এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী গিনি উপসাগরকে চিহ্নিত করা হয়।

Manual2 Ad Code

এরপর থেকেই পৃথিবীর এই রহস্যময় ‘হার্টবিট’ নিয়ে গবেষণায় নতুন গতি আসে। বিজ্ঞানীরা কম্পনটির উৎপত্তি সম্পর্কে কয়েকটি সম্ভাব্য তত্ত্ব সামনে এনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো তত্ত্বই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

Manual5 Ad Code

সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাত কি কারণ?
বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হলো, সমুদ্রের শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাত থেকেই এই কম্পনের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে মহাসাগরের তলদেশে অবস্থিত মহীসোপানে ঢেউ আছড়ে পড়লে সেখান থেকে ভূকম্পনের মতো সংকেত তৈরি হতে পারে।

বিষয়টি বোঝাতে গবেষকেরা টেবিলের উদাহরণ দিয়েছেন। টেবিলের এক প্রান্তে আঘাত করলে যেমন অন্য প্রান্তেও কম্পন ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি সমুদ্রের ঢেউয়ের শক্তিও সমুদ্রতলদেশে ছড়িয়ে পড়ে নিয়মিত ভূকম্পন সৃষ্টি করতে পারে।

Manual2 Ad Code

আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের যোগসূত্র
এই রহস্যের আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা উঠে আসে ২০১৩ সালে চীনা বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায়। তাদের ধারণা, গিনি উপসাগরের বাইট অব বনি অঞ্চলে সাও তোমে দ্বীপের কাছাকাছি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ থেকে এই কম্পনের উৎপত্তি হতে পারে।

সম্ভাব্য উৎসস্থলের কাছাকাছি এই অঞ্চলটির অবস্থান তত্ত্বটিকে বিজ্ঞানীদের কাছে আরও আগ্রহের বিষয় করে তুলেছে। তবে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের সঙ্গে প্রতি ২৬ সেকেন্ডের এই কম্পনের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা রহস্যময় এই ভূকম্পন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো এর প্রকৃত উৎস সম্পর্কে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। গবেষক মাইক রিটজওলারের মতে, পৃথিবীর এই নিয়মিত স্পন্দনের মৌলিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিজ্ঞানীদের আরও গবেষণা প্রয়োজন। ফলে প্রতি ২৬ সেকেন্ডে পৃথিবীর এই রহস্যময় ‘হার্টবিট’ ঠিক কী কারণে সৃষ্টি হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

শেয়ার করুন