স্টাফ রিপোর্টার:
দীর্ঘ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সারাদেশে যে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার আঁচ লেগেছে বিয়ানীবাজারেও। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িতে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই সহিংসতায় স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ই আগস্ট বিকালে ছাত্র জনতার নামে মুখোশধারী ও লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি, দাহ্য পদার্থসহ সশস্ত্র একটি দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ হামলা চালায়। বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এবাদুর রহমানের বাড়িতে হামলাকারীরা দরজা-জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র তছনছ করে এবং কাগজপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দেয়।
মোল্লাপুর ইউনিয়নের রাজনীতিতে মোঃ হাসান আহমদ এক পরিচিত মুখ। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ যুবলীগের স্থানীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নেও যুক্ত ছিলেন। তৃণমূলে দলকে সংগঠিত করতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন স্থানীয় সমর্থকরা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত, একচ্ছত্র প্রভাব খাটানো এবং বিরোধী মত দমন করার অভিযোগও রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
সরকার পতনের পরপরই সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬.০০টার দিকে ছাত্র জনতার নামে একদল লোক মোঃ হাসান আহমদের বাড়িতে গিয়ে তাহার সন্ধান করে তাকে না পেয়ে তাহার ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়, যাতে প্রচুর আসবাবপত্রসহ ঘরের জানালা-দরজা, ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে যায়। এ সময় তিনি নিজে বাড়িতে ছিলেন না, তবে পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর প্রতিবেশীরা আগুন নিয়ন্ত্রন করে তাহার বাড়ি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে রক্ষা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা “স্বৈরাচারের আস্তানা ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও” বলে স্লোগান দিতে দিতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়। এলাকাবাসীর দাবি, হামলাকারীরা ছিলেন মুখোশধারী ও বাইরের লোকজন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি মোঃ হাসান আহমদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলাফল এবং তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলে ক্ষোভ ছিল।
এছাড়াও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতেও একই ধরণের হামলা হয়। ঘরের আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভাঙচুরের পর বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার সময় পরিবারের সদস্যরা জীবন বাঁচাতে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “সরকার পতনের সুযোগে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্টান ও বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিরোধী রাজনৈতিক দলের এক নেতা বলেন, “আমাদের কর্মীরা এসব ঘটনায় জড়িত নয়। এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বদ্বের ফলাফল হতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্তেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।