Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে ভাতিজার দায়ের আঘাতে চাচী নিহত

admin

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:০৭ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
কমলগঞ্জে ভাতিজার দায়ের আঘাতে চাচী নিহত

filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0; module:1facing:0; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Hdr; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 0.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ভাতিজার দা’য়ের আঘাতে বকুল বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Manual1 Ad Code

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত বকুল বেগম (৫৬) সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামের মৃত ইলিয়াছ মিয়ার স্ত্রী।

এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হয়েছেন বকুল বেগমের মেয়ের জামাই অজুদ মিয়া (৩৫), একই এলকার সেলিম মিয়ার ছেলে সাঈদুল ইসলাম (১৮) ও আমিনুল ইসলাম (১৬)। হামলাকারীকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন খোঁঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার দুপুরে পারিবারিক দ্বন্ধে হেলিম মিয়া তার ভাইয়ের ঘরে প্রবেশ করে ভাতিজা সাইদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে প্রাণ রক্ষায় আমিনুল ও সাইদুল দৌড়ে এসে প্রতিবেশী বকুল বেগমের ঘরে আশ্রয় নেয়। সেখানে হেলিম এসে আবার ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এসময় ছুরির আঘাতে বকুল বেগম, বকুল বেগমের মেয়ের জামাই অজুদ মিয়া, সাইদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।

Manual4 Ad Code

পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক বকুল বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম ও অজুদ মিয়ার অবস্থা গুরুতর থাকায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরে স্থানীয় এলাকাবাসী হামলাকারী হেলিম মিয়াকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি ও মাদকা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে হেলিম মিয়া (৪০) বকুল বেগমের বসতঘরে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় আমিন মিয়া বাঁধা দিতে গেলে তাকেও কূপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বকুল বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আমিন মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত হেলিম মিয়াকে আটক করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

স্থানীয়রা বলেন, হেলিম দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। সে এর আগে এলাকার অনেক মানুষকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। কয়েকবার পুলিশ আটক করলেও কিছুদিন জেল কেটে আবার বের হয়ে যায়।

Manual6 Ad Code

নিহত বকুল বেগমের মেয়ে পারভীন বেগম বলেন, হেলিম মিয়া তার ভাতিজাদেরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে আমাদের ঘরে নিয়ে আসে। এসময় আমার মা সাইদুল ও আমিনুলকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলে আমার মা ও বোনের জামাইকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে আমার মাকে হত্যা করে। এমন নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত বকুল মিয়ার ঘরে স্বজনদের আহাজারি করছেন।

স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য পপি বেগম বলেন, হেলিম মিয়া তার ভাইয়ের বউকে দেখে ছুরি দিয়ে দৌড়ে ঘরে নিয়ে আসে। এসময় হেলিম মিয়া তার ভাতিজাদেরকে আঘাত করে। তারা বাঁচার জন্য প্রতিবেশি বকুল বেগমের ঘরে ঢুকে। সেখানে হেলিম এসে ৪ জনকে কুপিয়ে আহত করে। এসময় তিন জন গুরুতর আহত হলেও বকুল বেগম মারা গেছেন।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, স্থানীয়রা হেলিম মিয়াকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ ঘটনায় বকুল বেগম মারা গেছেন ও ৩ জন আহত হয়েছেন। হেলিমের বিরুদ্ধে আগেও থানায় কয়েকটি মামলা ছিলো। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Manual6 Ad Code

শেয়ার করুন