Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রিস যাওয়ার পথে ১২ জনের মৃত্যু: জনগন্নাথপুর ও দিরাই থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা

admin

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ১১:৩১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ১১:৩১ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
গ্রিস যাওয়ার পথে ১২ জনের মৃত্যু: জনগন্নাথপুর ও দিরাই থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা

Manual3 Ad Code

ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া-গ্রিস ঝুঁকিপূর্ণ ‘গেম–যাত্রায়’ ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের দুটি থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে মানব পাচার অপরাধ দমন আইনে মামলা হয়েছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানায় পাঁচজন এবং দিরাই থানায় চারজনের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে মামলা দুটি করা হয়।

Manual5 Ad Code

দিরাই থানায় করা মামলার বাদী হয়েছেন ভূমধ্যসাগের মারা যাওয়া দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান। জগন্নাথপুর থানায় করা মামলার বাদী হয়েছেন পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। তাঁর ছেলে আমিনুর রহমান একইভাবে ভূমধ্যসাগরে মারা যান।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আমরা এ মুহূর্তে আসামিদের নাম প্রকাশ করছি না। তবে আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’

Manual4 Ad Code

দিরাই ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেছেন, দিরাইয়ের জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের নিহত সুহানুর রহমান এহিয়ার বাবা সালিকুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার রাতে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন, মামলায় দালাল চক্র প্রতারণা করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে গ্রিস পাঠানোর কথা বলে তার ছেলেসহ অন্যান্য যুবকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সালিকুর রহমান।

মামলায় চার জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন, উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মৃত আকিব উল্লাহর ছেলে মুজিবুর মিয়া, জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালিপ্রবাসী সালেহ আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাও গ্রামের ছায়েক আহমেদ, ছাতক উপজেলার জসিম মিয়া। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন কয়েকজন।

মামলার বাদী সালিকুর রহমান বলেন, জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালি প্রবাসী সালেহ আহমদের প্রলোভনে পড়ে আমার ছেলে ইউরোপ যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তার সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে পাঠিয়েছিলাম। গত ২২ মার্চ ছেলের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলছিল আব্বা আমার কষ্ট হচ্ছে। খাবার নেই, পানি নেই। এরপর থেকে আমি দালাল সালেহ আহমদকে ফোন দিলে সে ফোন ধরেনি।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের মৃত্যুর খবর জেনে তাকে একাধিক বার ফোন দিলেও সে এখন পর্যন্ত ফোন রিসিভ করেনি।

লিবিয়া থেকে ছোট রাবারের বোটে করে সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ১২ জনের করুণ মৃত্যু হয়, তাঁদের সবাই তরুণ। এই যাত্রায় বেঁচে যাওয়া এক তরুণ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে ৪৮ জনকে নিয়ে ওই বোট গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। সাগরে প্রথমে নৌযানটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। পরে পথ হারিয়ে বোটটি সাগরে ছিল ছয় দিন। তখন পানিশূন্যতা ও অনাহারে মারা যান অনেকে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জেরই ১২ জন। দুই দিন লাশগুলো বোটে রাখার পর সঙ্গীরা পরে সাগরে ভাসিয়ে দেন। ২৭ মার্চ গ্রিস উপকূলে ভাসতে থাকা বোট থেকে ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে সে দেশের কোস্টগার্ড। পরদিন শনিবার বিকেলে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে খবর আসে।

মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন, তারা হলেন- চিলাউড়ার শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক রেজা (২৩), একই গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া (২৪), রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিঁয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়েক আহমদ জনি (২৫), পাইলগাঁও (হাড়গ্রাম) গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬) ও ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২)।

দিরাই উপজেলার ছয়জন নিহত হয়েছেন, তারা হলেন- কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের সাইদ সরদারের ছেলে নূরুজ্জামান ময়না (৩০), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) ও আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮); রাজানগর ইউনিয়নের ররনারচর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে উপজেলা যুবদলের সদস্য মজিবুর রহমান (৩৮), জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়া (২৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (৩০)।

এছাড়াও দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমও মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতদের স্বজনরা জানান, ৩/৪ মাস আগে তারা লিবিয়া গিয়েছিল। লিবিয়া থেকে তাদেরকে ‘গেইমে তুলে’ গ্রিসের উদ্দেশ্যে বোটে পাচার করা হচ্ছিল। এ জন্য ১২-১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দালালকে দিতে হয়েছে।

Manual4 Ad Code

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্রিসে যেতে এসব ব্যক্তি ১০–২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। অনেকে গরু, জমিজমা বিক্রি করে দালালদের হাতে টাকা তুলে দেন। অবৈধ পথে ইউরোপে নিতে সুনামগঞ্জ জেলায় একটি দালাল চক্র গড়ে উঠেছে, যাদের সহযোগীরা রয়েছে লিবিয়ায়।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেছেন, ‘জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলায় ইউএনওরা দালালদের তালিকা করে সেটি পুলিশকে দিয়েছেন। সব উপজেলাতেই খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে আমরা আছি।’

Manual2 Ad Code

শেয়ার করুন