Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৩শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন দশক পরও অমলিন সালমানের স্মৃতি, বললেন মৌসুমী

admin

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৬:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৬:৩২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
তিন দশক পরও অমলিন সালমানের স্মৃতি, বললেন মৌসুমী

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্ক :
তিন দশক কেটে গেছে। বদলেছে চলচ্চিত্রের সময়, বদলেছে দর্শকের রুচি, এসেছে নতুন প্রজন্ম। কিন্তু কিছু শিল্পীর চলে যাওয়া সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না। সালমান শাহ তেমনই এক নাম। মৃত্যুর ৩০ বছর পরও তার স্মৃতি, অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতি দর্শকের কাছে সমানভাবে জীবন্ত।

প্রয়াণ দিবসে প্রিয় বন্ধু ও সহশিল্পী সালমান শাহকে আবেগঘন কথায় স্মরণ করেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। তার কাছে সালমানের চলে যাওয়া শুধু চলচ্চিত্রের একজন জনপ্রিয় নায়ককে হারানো নয়, বরং খুব কাছের একজন বন্ধুকে হারানোর বেদনাও।
সালমানের মৃত্যুর সেই দিনের কথা মনে করে মৌসুমী বলেন, ‘তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ওই দিনের স্মৃতি আমাকে ভারাক্রান্ত করে। ৩০ বছর আগে আজকের দিনেই এমন একটি সংবাদ শুনতে হয়েছিল, যা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না—সালমান আর নেই।’

Manual2 Ad Code

বন্ধুকে হারানোর সেই শোক বুকে নিয়েই সেদিন তাকে শেষ বিদায় জানাতে হয়েছিল মৌসুমীকে। সময়ের ব্যবধান বাড়লেও সালমানের স্মৃতিতে কোনো ভাটা পড়েনি বলেই মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, প্রিয় বন্ধুকে হারানোর কষ্ট আজও রয়ে গেছে, আর সালমানকে ভুলে থাকা আসলে সম্ভব নয়।

Manual3 Ad Code

মাত্র চার বছরের অভিনয়জীবনেও সালমান শাহ যে জনপ্রিয়তা ও প্রভাব তৈরি করেছিলেন, সেটিকে বিস্ময়কর মনে করেন মৌসুমী। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬— এই স্বল্প সময়েই বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও পর্দায় আলাদা উপস্থিতি তাকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করে তুলেছিল।

মৌসুমীর স্মৃতিতে সালমান ছিলেন নিজের জায়গায় অনন্য। তার আকস্মিক মৃত্যুর কারণ নিয়ে আজও মনে প্রশ্ন জাগে এই অভিনেত্রীর। জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় এবং ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় কেন সালমান সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন, এই প্রশ্নের হয়তো কোনোদিন উত্তর মিলবে না বলেই মনে করেন তিনি।

Manual6 Ad Code

তবে সেই উত্তর খোঁজার চেয়ে সালমানের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিতেই ফিরে যেতে চান মৌসুমী। বাস্তব জীবনে না থাকলেও কল্পনার ভেতর এখনো তার সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। এভাবেই প্রিয় বন্ধুকে নিজের কাছে জীবন্ত রাখেন তিনি।

সালমান শাহ’র ক্যারিয়ার ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তার প্রভাব ছিল দীর্ঘস্থায়ী। মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের জন্য যে জায়গা তৈরি করেছিলেন, সেটি পরবর্তী সময়ে আরও দৃঢ় হয়েছে। তার অভিনীত সিনেমা যেমন দর্শকের স্মৃতিতে রয়ে গেছে, তেমনি তার গানও এখনো নতুন-পুরোনো প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়।

Manual2 Ad Code

মৃত্যুর পর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সালমান শাহকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ কমেনি। বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার সিনেমা, পোশাক, অভিনয়শৈলী ও গান নতুন করে আবিষ্কার করছে। এ কারণেই সালমান আজ শুধু নব্বই দশকের একজন জনপ্রিয় নায়ক নন; তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সংস্কৃতিতে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেওয়া এক অমর নাম।

মৌসুমীর বিশ্বাস, চলচ্চিত্র যতদিন বেঁচে থাকবে, দর্শকের ভালোবাসায় সালমান শাহও ততদিন বেঁচে থাকবেন। সময় তাকে আমাদের কাছ থেকে দূরে নিয়ে গেছে, কিন্তু দর্শকের হৃদয় থেকে মুছে দিতে পারেনি। সম্ভবত এটাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

শেয়ার করুন