Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাইমের মায়ের কান্না থামাবে কে?

admin

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:৪৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
নাইমের মায়ের কান্না থামাবে কে?

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
স্বপ্নের ইউরোপে আর যাওয়া হলো না সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নাইম আহমদের। লিবিয়া থেকে রাবারের বোটে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার নৌকাডুবির ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত নাইমের বাড়িতে চলছে মাতম। মা আকি বেগম ছেলের মৃত্যুশোকে ভেঙে পড়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে দালালরা মেরে ফেলেছে। তোমরা আমার নাইমকে এনে দাও।সংবাদ পরিবেশন

Manual3 Ad Code

ও আল্লাহ, তুমি আমাকে নিয়ে যাও, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও।’ এ কথা বলতে বলতেই তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নাইমের বাবা দোলন মিয়া জানান, জমিজমা বিক্রি করে ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামের দালাল আজিজুল ইসলামের মাধ্যমে জানুয়ারি মাসে লিবিয়ায় পাঠানো হয় নাইমকে।

সেখানে পৌঁছানোর পর গ্রিসে পাঠানোর কথা বলে আরো ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা পরিশোধের পরও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, “২১ মার্চ আমার ছেলেকে ‘গেমে’ দেওয়া হয়। আমাদের আগে কিছুই জানানো হয়নি। শনিবার জানতে পারি সাগরে আমার ছেলে মারা গেছে। তার লাশও পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ এ ঘটনায় জড়িত দালালের বিচার দাবি করেন তিনি।

Manual4 Ad Code

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল জানান, একই গ্রামের দুই যুবকের সাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে পুরো এলাকায় শোক বিরাজ করছে। তিনি বলেন, ‘ইউরোপে পাঠানোর নামে দালাল চক্র প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং অনেক পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউরোপের গ্রিসে যাওয়ার জন্য দালাল চক্রের সঙ্গে ১২ লাখ টাকা করে চুক্তিতে কয়েকজন যুবক ৩-৪ মাস আগে লিবিয়ায় যান। সেখান থেকে ৬-৭ দিন আগে রাবারের বোটে করে সমুদ্রপথে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন তারা, যা স্থানীয়ভাবে ‘গেম’ নামে পরিচিত। যাত্রাপথে খাবার ও পানির সংকটে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মৃত্যুবরণ করেন। নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুরের পাঁচজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

Manual8 Ad Code

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ বলেন, ‘সাগরপথে জগন্নাথপুরের পাঁচজন যুবকের মৃত্যুর তথ্য আমরা পেয়েছি। তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
সৌজন্যে: কালেরকন্ঠ

Manual6 Ad Code

শেয়ার করুন