নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের চার জলোয় হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুর সংখ্যা ছিল ১৯৯ জন। আর গেল ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।
রবিবার স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রবিবার সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষায় হাম আক্রান্ত নতুন কোন রোগী সনাক্ত হননি। এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নমুনা পরীক্ষায় হাম আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন ১০৯ জন।
সিলেটে ল্যাব টেস্টের সুযোগ না থাকায় উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষা করে রিপোর্ট আনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গেল ২৪ ঘন্টায় সিলেটে আরও ৩৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৭ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৫ জন ভর্তি হয়েছেন।
আর মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে ১৯৯ জন ভর্তি রয়েছেন তার মধ্যে সর্বোচ্চ ৮১ জন আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৩ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন, ২ জন করে ভর্তি আছেন নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল ও পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে, রবিবার হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নাফিজ আহমদ নামের ১১ মাস বয়সী ওই শিশু সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার মাহতাবপুরের নূর জামানের ছেলে। সিলেট শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬ জনে।