নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি চেয়রম্যান সিলেট সফরে এসেছিলেন শনিবার (২ মে)। ব্যস্ত শিডিউলের এই সফর শেষ করে তিনি সন্ধ্যায় আবার ঢাকায় ফিরেও গিয়েছেন। তবে এরমধ্যে সিলেটবাসীর সার্বিক কল্যাণে বা সিলেটের উন্নয়নে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
সিলেট সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহানগরীর দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেছেন। জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে সিলেট নগরবাসীর।
দুপুরে তিনি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া নদী পূণঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন। তার আগে নগরভবন প্রাঙ্গনে সিলেট সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এক সুধি সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। এখানে দেওয়া তার বক্তব্যে আগামী দিনের জন্য তার সরকার সিলেটবাসীর জন্য কয়েকটি উন্নয়ন কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর প্রত্যেকটি কাজই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যেমন সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় সিলেট থেকে ঢাকায় যাতায়াত অনেক কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সময়তো প্রায় ১০/১২ ঘন্টা লেগেই যায়। বিষয়টি উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শুরু এবং তা শেষ করতে তার সরকারের তৎপরতার কথা তুলে ধরেছেন।
এছাড়াও ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
সিলেটবাসীর জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বড়ই কঠিন এক কাজ। পুরো বিভাগের ৪টি জেলার জন্য প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হচ্ছে ৯০০ শয্যার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই হাসপাতালটিকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করতেও কাজ করছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
তাছাড়া ২৫০ শয্যার সিলেট জেলা হাসপাতালটিকেও যতদ্রুত সম্ভব চালুর প্রতিশ্রুত দিয়েছেন তিনি।
বর্তমান সময়টা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির যৌবণকাল। কিন্তু এ সময়টাতে এসেও সিলেট এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীরও নজরে আছে। আর তাই কোম্পানীগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত আইটি পার্কটিকেও দ্রুত সচল করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আর বাসিয়া নদী পূণঃখননের কাজ শেষ হলে এর দুই তীরে ৫০ হাজার গাছ লাগানোর কথাও বলেছেন তিনি। এরমধ্যে ফলদবৃক্ষও থাকবে। নিঃসন্দেহে এটি বাস্তবায়ন হলে সিলেটের পর্যটন খাত আরও এগিয়ে যাবে।
এছাড়াও আরও কিছু উন্নয়ন কাজের কথা তিনি বলেছেন। সেগুলো কেবলমাত্র সিলেটের জন্য নয়। সারাদেশের জন্য। যেমন ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ, বন্ধ কল-কারখানা সচল করা, নতুন শিল্প উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও শিল্প স্থাপন ইত্যাদি।