Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরাশক্তির আধিপত্যের রাজনীতি আর কতকাল?

admin

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:১০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:১১ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
পরাশক্তির আধিপত্যের রাজনীতি আর কতকাল?

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual1 Ad Code

বিশ্ব ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিলে একটি তিক্ত সত্য প্রতীয়মাণ হয়-বিশ্বব্যবস্থার অন্তরালে এক অদৃশ্য কিন্তু সুদৃঢ় কর্তৃত্ব দীর্ঘকাল ধরিয়া কার্যকর রহিয়াছে। এই কর্তৃত্বের বাহ্যিক রূপ কখনো উন্নয়ন, কখনো স্থিতিশীলতা, কখনো মানবাধিকারের ভাষ্য ধারণ করিলেও, তাহার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য প্রায়শই ক্ষমতার একচ্ছত্র প্রতিষ্ঠা এবং প্রভাব বিস্তারের প্রয়াস।একটি পরাশক্তিধর রাষ্ট্র, যাহার অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা তুলনাহীন, পৃথিবীর নানা প্রান্তে নিজস্ব ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাইতে চাহে। কোন রাষ্ট্র কোন নীতিতে চলিবে, কোন সরকার গ্রহণযোগ্য হইবে, কিংবা কাহাকে অপসারণ করিতে হইবে-এই সকল প্রশ্নে তাহারা যেন শেষ কথা বলিতে চাহে। একসময় এই ধরনের কার্যকলাপ গোপন কূটনীতি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও আড়াল করা অর্থনৈতিক চাপে সীমাবদ্ধ থাকিলেও, বর্তমান যুগে তাহা প্রায় প্রকাশ্য ঘোষণার পর্যায়ে উপনীত। ইহা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নহে, বরং গত শতাব্দীর মাঝামাঝি হইতে ইহা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের নামে, কখনো আবার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থানের অজুহাতে, ক্ষমতার পালাবদল ঘটানো হইয়াছে। কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করিলে দেখা যায়-এই পরিবর্তনের মূলে মানবকল্যাণ অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পাইয়াছে কৌশলগত স্বার্থ, প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, এবং ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার। যখন কোনো রাষ্ট্র স্বাধীন নীতি গ্রহণে অনড় থাকিতে চাহে, কিংবা পরাশক্তির পরামর্শ উপেক্ষা করিয়া স্বকীয় পথ অনুসরণ করিতে চাহে, তখনই তাহার উপর নানাবিধ চাপ প্রয়োগ আরম্ভ হয়। প্রথমে অর্থনৈতিক সহায়তা হ্রাস, তারপর ঋণনির্ভরতা সৃষ্টি এবং পরিশেষে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিচ্ছিন্ন করিবার প্রয়াস-এই ধাপগুলি যেন একটি পূর্বপরিকল্পিত কৌশলের অংশ। অর্থনৈতিক সংকটকে তীব্রতর করিয়া তুলিয়া, জনগণের অসন্তোষ বাড়াইয়া, অবশেষে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়। ইহা বহু দেশে বহুবার প্রত্যক্ষ করা গিয়াছে।

Manual3 Ad Code

এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সংস্থাগুলি বিশ্বশান্তি, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হইলেও, বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে তাহারা শক্তিধর রাষ্ট্রের নীতির প্রতিফলন ঘটায়। ঋণের শর্ত, অর্থনৈতিক সংস্কারের নির্দেশনা, কিংবা নিষেধাজ্ঞার আরোপ-এই সকল পদক্ষেপ অনেক সময় এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়, যাহাতে উদ্দেশ্য থাকে-লক্ষ্যভুক্ত রাষ্ট্রটি যেন ধীরে ধীরে আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারাইয়া ফেলে। অধিকতর উদ্বেগজনক বিষয় এই যে, এই আধিপত্যবাদী প্রবণতা ক্রমশ নৈতিকতার মুখোশ ত্যাগ করিয়া বর্তমানে প্রকাশ্যে দম্ভ করিয়া নগ্নভাবে ইহার প্রয়োগ এবং তাহার কথা উচ্চারণ করে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন বক্তব্যও শুনা গিয়াছে, যেইখানে একটি সম্পূর্ণ সভ্যতাকে ধ্বংস করিবার ইচ্ছা প্রকাশ করা হইয়াছে! দুঃখজনকভাবে, এই ধরনের সাম্রাজ্যবাদ কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতার উপরই আঘাত হানে না; ইহা একটি জাতির আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করিয়া তোলে। বিভিন্ন সময়ে কোনো একটি দেশের সরকার পরিবর্তন মানেই কেবল ক্ষমতার পালাবদল নহে; ইহা বহন করে অনিশ্চয়তা, সহিংসতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার বীজ। বহু দেশে এই প্রক্রিয়ার ফলে গৃহযুদ্ধ, শরণার্থী সংকট এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হইয়াছে।

অতএব, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়-রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কি সত্যই অক্ষুণ্ণ রহিয়াছে, নাকি ইহা কেবল একটি কাগুজে ধারণায় পরিণত হইয়াছে? যদি একটি শক্তিধর রাষ্ট্র নিজের ইচ্ছামতো অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নির্ধারণ করিতে পারে, তাহা হইলে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়ের ধারণা কতটুকু কার্যকর? এই দম্ভ ও আধিপত্যের রাজনীতি পৃথিবীকে ক্রমাগত সংঘাত, বিভাজন এবং অবিশ্বাসের অন্ধকারে নিমজ্জিত করিতেছে? ইহার শেষ কোথায়?

Manual1 Ad Code

শেয়ার করুন