Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পবিত্র ঈদুল ফিতর: সাম্য ও সম্প্রীতির শাশ্বত উৎসব

admin

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ | ০৭:০৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ | ০৭:০৯ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
পবিত্র ঈদুল ফিতর: সাম্য ও সম্প্রীতির শাশ্বত উৎসব

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual5 Ad Code

আজ ২৯ রমজান শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা দিলে আগামীকাল সমগ্র দেশে উদযাপিত হইবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। চাঁদ দেখা না দিলে পরের দিন শনিবার পালিত হইবে এই উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর সমাগত হয় এই পবিত্র ঈদুল ফিতর। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজানের সমাপ্তিতে এই উৎসব কেবল আনন্দ-উদ্যাপনের উপলক্ষ্য মাত্র নহে, বরং ইহা আত্মশুদ্ধি ও ভ্রাতৃত্বের এক মহত্তম পরীক্ষা। রাজধানী ঢাকা হইতে শুরু করিয়া প্রান্তিক পল্লি জনপদ পর্যন্ত আজ যে আনন্দের হিল্লোল বহিয়া যাইতেছে, তাহার মূলে রহিয়াছে ত্যাগের মহিমা ও সহমর্মিতার এক স্বর্গীয় আহ্বান।ঈদুল ফিতরের শাব্দিক অর্থ হইল রোজা ভঙ্গের আনন্দ। এই আনন্দ যতটা না বাহ্যিক, তাহার চাইতে অধিক আধ্যাত্মিক তথা অন্তরের অন্তস্তল হইতে গভীরভাবে উপলব্ধির বিষয়। পূর্ণ এক মাস সিয়াম সাধনের পর একজন মোমিন-মুসলমান সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হইয়া যান। পাপের ভার হইতে এই যে মুক্তিলাভ, ইহার চাইতে আনন্দের আর কী আছে? এই জন্য ঈদগাহে গিয়া দুই রাকায়াত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায়পূর্বক নিজেকে তাহার নিকট একনিষ্ঠভাবে নিবেদন করিতে হয়। ইহা ছাড়া ঈদুল ফিতরের আরেক সার্থকতা নিহিত রহিয়াছে সাদকাতুল ফিতর বা ফিতরা তথা দানশীলতার বিধানের মধ্যে। ইহা ঈদগাহে সালাত আদায়ের পূর্বেই প্রদান করিতে হয়, যাহাতে অসহায় ও গরিব-দুঃখী মানুষ ঈদের মহান আনন্দে শরিক হইতে পারে। আসলে ইসলামের এই অমোঘ নির্দেশ আমাদের স্মরণ করাইয়া দেয় যে, বিত্তবানের আমোদ-প্রমোদ যেন কদাপি দরিদ্রের দীর্ঘশ্বাসের কারণ না হয়। কেননা একাকী ভোগে কোনো তৃপ্তি নাই; প্রকৃত সুখ রহিয়াছে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে। সমাজের একদল মানুষ যখন বিলাসিতায় মত্ত, তখন অন্যদল যদি ন্যূনতম জীবনধারণের সামগ্রী হইতে বঞ্চিত থাকে, তাহা হইলে ঈদের চাঁদ কেবল আকাশের শোভাবর্ধনই করিবে, মানবহৃদয়ে কোনো খাপাত করিতে পারিবে না।

Manual3 Ad Code

বিগত কয়েক বৎসরের বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক টানাপড়েন এবং বর্তমানে ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন দেশের অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনকে বহু ক্ষেত্রে কণ্টকাকীর্ণ করিয়া তুলিয়াছে। যুদ্ধের কারণে নূতন করিয়া স্বাভাবিক জীবনযাপনে শঙ্কা দেখা দিয়াছে। এমতাবস্থায় এবারের ঈদ হউক ধৈর্য, সংযম ও সংবেদনশীলতার। অপচয় বর্জন করিয়া আমরা যেন প্রতিবেশী ও আর্তমানবতার সেবায় সচেষ্ট হই। ঈদগাহের ময়দানে যখন সকল ভেদাভেদ ভুলিয়া ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে কাতারবন্দি হইয়া দাঁড়ায়, তখন যেন সেই সাম্যের শিক্ষা কেবল প্রার্থনার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তাহা আমাদের প্রাত্যহিক আচরণে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত হয়।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনুপম লীলাভূমি। যুগে যুগে এ দেশের মানুষ সকল ধর্মের উৎসবকে সর্বজনীন রূপ প্রদান করিয়াছে। হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা পরিহার করিয়া একটি শান্তিময় ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়িয়া তোলাই হউক এবারের ঈদের অঙ্গীকার। ঈদ মানেই ফিরিয়া যাওয়া—শিকড়ের টানে, স্বজনের সান্নিধ্যে। নাড়ির টানে ঘরমুখী মানুষের এই যে যাত্রা, তাহা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়, সেইদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো আন্তরিকতা ও সজাগ দৃষ্টি কাম্য।পরিশেষে, জগতের সকল মানুষের প্রতি শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হউক। সকলের জীবনে ঈদ বহিয়া আনুক অনাবিল প্রশান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি। আমাদের পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক শুভেচ্ছা—ঈদ মোবারক। হাদিসের ভাষায়—তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনার নেক আমলগুলি কবুল করুন। আমিন।

শেয়ার করুন