Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজারে আপন ভাইদের বিরুদ্ধে লন্ডন প্রবাসীকে হত্যার অভিযোগ, লাশ উত্তোলনের নির্দেশ

admin

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৩ | ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৩ | ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
বিয়ানীবাজারে আপন ভাইদের বিরুদ্ধে লন্ডন প্রবাসীকে হত্যার অভিযোগ, লাশ উত্তোলনের নির্দেশ

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
বিয়ানীবাজারে ব্রিটিশ বাংলাদেশী পঞ্চাশোর্ধ এক নাগরিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দু’মাস পূর্বে নৃশংস এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে। নিহত জালাল উদ্দিন একই গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর পুত্র। এ ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর নিহতের মেয়ে আপন চাচাসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

Manual6 Ad Code

পরে আদালতের নির্দেশে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হলেই পোস্টমর্টেমের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হবে বলেও জানিয়েছেন থানার ওসি দেবদুলাল ধর।

নিহতের মেয়ে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী জোবায়দা জালাল এর মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, তার পিতা জালাল উদ্দিনের (৫৫) দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে। এজন্য ২০১৯ সাল থেকে তিনি দেশে বসবাসরত ছিলেন। গত ১৯ আগস্ট জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার বড় চাচা সুনাম উদ্দিনসহ পরিবারের লোকজন ঐদিন তার পিতাকে মারধর করেন। বিকেলেই মৃত্যুর পূর্বে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের অবহিত করেছেন।

 

Manual7 Ad Code

এদিকে, নিহতের সন্তানাদি প্রবাসে থাকায় বড় চাচা সুনাম উদ্দিন পুলিশকে না জানিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন জানাজা শেষে লাশ দাফন করেন। পিতাকে মারধরের খবর পেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবর তিনি প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করেন এবং পরে দেশে এসে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন জোবায়দা জালাল। মামলায় নিহতের বড় ভাই সুনাম উদ্দিন (৬০), তার দ্বিতীয় স্ত্রী রাবিয়া বেগম (৩৬), পালিত কন্যা মান্না বেগম (২২) ও একই এলাকার পাথারিপাড়া গ্রামের আব্দুল হাছিবকে অভিযুক্ত করেছেন।

আদালতে মামলার পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে, জালাল উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু না হত্যা, এ বিষয়ে মিডিয়ায় গ্রামবাসী ভয়ে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

মামলার বাদী জোবায়দা জালাল বলেন, বড় চাচা আমাদেরকে হার্ট এ্যাটাকে বাবার মৃত্যু কথা বলেছেন। পরে স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পারলাম তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ততক্ষণে বাবার লাশ দাফন করা হয়েছে। তিনি বলেন, লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করলেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আদালত থেকে ময়না তদন্তের নির্দেশ দেয়ার পরও দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

মামলার প্রধান অভিযুক্ত সুনাম উদ্দিন বলেন, আমাদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ঘটনার দিন পুকুরে মাছ ধরা নিয়েও জালাল উদ্দিনের সাথে আমার বাকবিতন্ডা হয়। তবে, তার সাথে মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, প্রবাসে ভাইয়ের সন্তানদের ধারণা থেকেই হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যুর কথা বলেছি।

প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের ভাগ্নে কাশিম উদ্দিন বলেন, বড় মামা ধাক্কাধাক্কি করে পুকুরপাড় থেকে ছোটো মামাকে সরিয়ে দিতে দেখেছি। তবে, মামাদের সাথে দীর্ঘদিন থেকে মনোমালিন্য থাকায় তাদের বিবাধের সময় সেখানে যাইনি।

Manual5 Ad Code

ইউপি সদস্য কয়ছর আহমদ বলেন, প্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে আমরা কিছুই জানিনা বা আমাদের কেউ জানায়নি। তবে যেহেতু নিহতের মেয়ে মামলা করেছেন সেজন্য পোস্টমর্টেম করা জরুরি। তাহলে গ্রামবাসী মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পারবেন।

মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আল মামুন বলেন, প্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে এলাকায় বেশ মাতামাতি হচ্ছে। এজন্য আমিও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ দেবদুলাল ধর বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যে মামলা রেকর্ডসহ আদালতে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। এখন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হলেই পোস্টমর্টেমের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হবে।

Manual7 Ad Code

শেয়ার করুন