Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়ে অসন্তুষ্ট আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা

admin

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
রায়ে অসন্তুষ্ট আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আবু সাঈদ হত্যার নির্দেশদাতা বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই বেঁচে গেছেন। সব আসামির ফাঁসি দাবি করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Manual4 Ad Code

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছেলের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। কিন্তু আমি তখনই শান্তি পাবো যখন এ রায় কার্যকর হবে।
এছাড়া আবু সাঈদের বড়ভাই আবু রায়হান ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি দাবি করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।

তিনি জানান, এই রায়ে কাউকে মৃত্যুদণ্ড আবার কাউকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আবু সাঈদের সহপাঠীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও অনেককে লঘুদণ্ড দেওয়ায় তারা রায় বিবেচনা করার মতামত দিয়েছেন।

Manual7 Ad Code

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, ঘটনার সময় আমি রংপুরে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম না। যার কারণে শহীদ আবু সাঈদের সহপাঠী, ঘটনার সাক্ষী কিংবা যারা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিয়েছে তাদের সন্তুষ্টি মানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তুষ্টি। আবার শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সন্তুষ্টি মানেও এই বিশ্ববিদ্যালয় তথা আমার সন্তুষ্টি।

রায়ে অসন্তুষ্ট শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধারা

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমরা আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় পেয়েছি। কিন্তু এই রায়ে গুরুদণ্ডে আসলে লঘুশাস্তি দেওয়া হয়েছে; আমরা আদালতের কাছে রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানাই। সেই সঙ্গে যাদের শাস্তি হয়েছে, তাদের দণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।​আমরা দেখেছি ছাত্রলীগের সভাপতি অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন, অথচ তাকে খুবই লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

Manual3 Ad Code

‎আরেক সহযোদ্ধা আহমাদুল হক আলবীর বলেন, এ রায়ে আমাদের প্রাপ্তির জায়গা হলো বিচারটা হয়েছে। কিন্তু আমাদের হতাশার জায়গা হচ্ছে- মাত্র দুইজন পুলিশের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে কিন্তু এখানে অনেক পুলিশ সদস্য জড়িত ছিল এবং অনেক ছাত্রলীগ সদস্য আবু সাঈদ ভাইকে এবং ছাত্রদের হামলা করেছে কিন্তু সেই অনুযায়ী আমরা প্রত্যাশিত রায়টি পাইনি। সর্বোপরি আমরা আদালতকে দাবি জানাই রায়টি পুনরায় বিবেচনা করা হোক।

‎আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী আরমান হোসেন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম শাস্তি আরও বেশি হবে। আমরা এ ব্যাপারে হতাশ। প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় পাইনি। আমরা আশা করবো বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিবেন ও রায় পুনরায় বিবেচনা করবেন।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

Manual6 Ad Code

শেয়ার করুন