স্টাফ রিপোর্টার:
ভোরের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ দলবদ্ধ কুকুরের ঘেউ ঘেউ, কিংবা স্কুলে যাওয়ার পথে আতঙ্কিত শিশুর ছুটে পালানো; এ যেন এখন সিলেট নগরীর নিত্যদিনের দৃশ্য। বেওয়ারিশ প্রাণীর উপদ্রব আর ভ্যাকসিন সংকট মিলিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। আর সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় গত ছয় মাসে ৬ হাজারের বেশি মানুষকে নিতে হয়েছে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন।নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এই সময়ে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৬ হাজার ৫৪৮ জন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অক্টোবর মাসে ১ হাজার ৩১ জন, নভেম্বরে ১ হাজার ১ হাজার ৩৩০ জন এবং ডিসেম্বরে ১ হাজার ১৭৪ জন ভ্যাকসিন নেন। তবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভ্যাকসিন সংকট থাকায় এ সংখ্যা কিছুটা কমে যায়। ফেব্রুয়ারিতে ৮৫২ জন এবং মার্চে ৯৮৮ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৮০৭ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। বাকি ৪ হাজার ৭৪১ জনের বেশিরভাগই পোষা বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরের শুরুতে প্রায় দুই মাস হাসপাতালে নতুন ভ্যাকসিন সরবরাহ ছিল না। পুরনো মজুত দিয়েই কোনোভাবে সেবা চালিয়ে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ৭০০ ভায়াল ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
এদিকে নগরজুড়ে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। রাস্তাঘাট, বাজার, অলিগলি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে দলবদ্ধ কুকুরের বিচরণ এখন সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। অনেক শিশু কুকুরের ভয়ে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের পর থেকে কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগও খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ২০১৯ সালে প্রায় ২ হাজার ৯০০ বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকা দেওয়া হলেও এরপর সেই কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালেও কোনো ভ্যাকসিন মজুত নেই।
অন্যদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ পোষা প্রাণীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে মাত্র ১৫০টি বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান মিয়া বলেন, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ। একবার লক্ষণ দেখা দিলে এর থেকে বাঁচার সুযোগ থাকে না। কামড়ের স্থান অনুযায়ী দ্রুত বা দেরিতে লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। তাই সচেতনতা এবং সময়মতো ভ্যাকসিন গ্রহণই হতে পারে একমাত্র প্রতিরোধ।