Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলো-অন্ধকারের খেলায় মেতেছে সিলেট

admin

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:০৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:০৫ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
আলো-অন্ধকারের খেলায় মেতেছে সিলেট

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual4 Ad Code

সিলেট অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎতের তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শহর থেকে গ্রাম-সর্বত্রই বিদ্যুৎতের ‘ভেলকিবাজিতে’ অতিষ্ঠ মানুষজন। অন্ধকার তাড়াতে মোমবাতি ও পুরনো ল্যাম্পই এখন জনসাধারণের ভরসা। বিশেষ করে, তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা করলেও শুরু হয় বিদ্যুৎতের ‘আসা-যাওয়ার’ খেলা।

Manual4 Ad Code

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যুৎ একবার এলে কিছুক্ষণ পরই আবার চলে যাচ্ছিল। তবে সন্ধ্যার পর এক পর্যায়ে বিদুৎ পুরোপুরি ‘লাপাত্তা’ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বিদ্যুৎ না আসায় অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় পুরো এলাকা।সিলেট নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার ও কুমারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে ও রাতে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। শহর এলাকায় গড়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে গ্রামীণ এলাকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় দিনের অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। অনেক গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টাও লোডশেডিং হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এমন খবরই আসছে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারসহ সিলেট পল্লী বিদুৎ সমিতি-১ এর  আওতাভুক্ত এলাকাগুলো থেকে।
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে গিয়ে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হওয়া এবং সময়মতো দোকানপাট বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

 

Manual1 Ad Code

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেটের তথ্যমতে, বর্তমানে সিলেটে বিদ্যুৎদের চাহিদা প্রায় ৪৭৭ মেগাওয়াট, কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি রয়ে গেছে। জ্বালানি সংকট এবং গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোতে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নগরীর মাছিমপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‌’এই গরমে সারাদিন কাজ শেষে ঘরে ফিরেও শান্তি নেই। বিদ্যুৎ একবার গেলে আসার নাম থাকে না। বাধ্য হয়ে এখন মোমবাতি আর চার্জার লাইট নিয়ে বসে থাকতে হয়’। গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়বে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই লোডশেডিং আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

Manual4 Ad Code

শেয়ার করুন