Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে বন্ধুকে শায়েস্তা করতে গিয়ে মেয়ের দিকে হাত, অতঃপর…

admin

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ | ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে বন্ধুকে শায়েস্তা করতে গিয়ে মেয়ের দিকে হাত, অতঃপর…

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার সময় বাঁধা দেওয়ায় দাদি দিলারা বেগম (৫৪)-কে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়। এই ঘটনায় মা-মেয়েসহ আরও ২জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীর পিতার নাম আম্বিয়া আহমদ। তিনি ওমান প্রবাসী।

Manual3 Ad Code

শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে গোয়াইনঘাট থানাপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে শনাক্ত করতে পেরেছে। শনাক্তকৃত ব্যক্তি হারুন।

Manual4 Ad Code

জানা যায়, রাতে ঘরের একটি কক্ষে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল কিশোরী নাতনি (১৪)। আর্ত চিৎকারে দাদি গিয়ে দেখেন একদল লোক কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তা ঠেকাতে ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দাদি এলাকাবাসীকে ডাকেন। এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে মারা যান কিশোরীর দাদি। দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত দাদি হচ্ছেন দিলারা বেগম (৫৪)। তিনি মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে আহত কিশোরী (১৪) ও তার মা আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

কিশোরীকে তুলে নেওয়া বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো ঘটনা নয় বলে দাবি করছে পুলিশ। ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকান্ড ও জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে শনাক্ত করতে পেরেছে। ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীর পিতা আম্বিয়া আহমদ ও হারুন ছোট বেলার বন্ধু ছিলেন। তারা একসাথে বড় হয়েছেন এবং এমনকি তারা ওমানে একসাথেও বসবাস করেছেন। ওমানে থাকাকালীন সময়ে আম্বিয়া ও হারুনের মধ্যে বেশ কয়েকদফা আর্থিক লেনদেন হয়। আম্বিয়ার কাছে টাকা পাওনা ছিলেন হারুন। হারুন দেশে আসার পর পাওনা টাকার জন্য আম্বিয়াকে বারবার চাপ দিচ্ছেন। আম্বিয়াও বারবার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের তিক্ততা সৃষ্টি হয়। এক সময় বন্ধুত্বের মধ্যে ফাটল দিয়ে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এই বিষয় নিয়ে এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার সালিশ-বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো সুরাহা হয় নি। পরবর্তীতে আম্বিয়াকে শায়েস্তা করতে শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তার বসতঘরে ঢুকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন জানায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে কিশোরী চিৎকার করতে থাকলে তাকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখাতে গিয়ে হাতে জখম করা হয়। চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে দরজার সামনে দাঁড়ান। দুর্বৃত্তরা তার বুকের ডান পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাৎক্ষণিক এ দৃশ্য দেখে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতের এক সন্তান প্রবাসী। তার সঙ্গে টাকার বিরোধ নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে এ টুকু জানা গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। আসামীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Manual8 Ad Code

শেয়ার করুন