Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিপো থেকে তেল সরবরাহ কম, ফিলিং স্টেশনে সঙ্কট

admin

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
ডিপো থেকে তেল সরবরাহ কম, ফিলিং স্টেশনে সঙ্কট

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটে জ্বালানী তেল নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখনও চাহিদা মাফিক পেট্রোল অকটেন ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। সঙ্কটের কারণে কিছু পেট্রোল পাম্প জ্বালানী তেল বিক্রিই বন্ধ করে দিয়েছে।

সিলেটের পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে তেল কম সরবরাহ করা হচ্ছে। একারণে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চাহিদামাফিক সরবরাহ পেলে সঙ্কট কেটে যাবে।

রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরে সারেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কোন কোন ফিলিং স্টেশন থেকে সীমিত পরিমানে জ্বালানী পাচ্ছেন পাচ্ছেন যানবাহন চালকরা। আবার বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকার কথা বলে বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

Manual5 Ad Code

সিলেট নগরের বন্দরবাজার সংলগ্ন জালাবাদ ট্রর্ট্রে পাম্পের সত্ত্বাধিকারী জানান, সরবরাহ বন্ধ থাকায় পাম্পের তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

এসময় এই পাম্পে মোটর সাইকেল নিয়ে তেল নিতে আসেন বিকাশের মার্চেন্ট এজেন্ট মিলন (২৮। তিনি বলেন, কাল রাত থেকে তেল পাচ্ছি না, ডিউটি করবো কীভাবে, আর যাতায়াত করবো কীভাবে?

সন্ধায় নগরের পাঠানটুলার নর্থ ইস্ট পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, এই পাাম্পে সীমিত আকারে জ্বালানী তেল বিক্রি হচ্ছে। মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।

নগরের আম্বখানার জালালাবাদ পেট্রল পাম্পে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে কোনটিতে ২০০ কোনটিতে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। অনেকে অকটেন নিতে চাইলেও অকটেন নেই বলে জানান পাম্পের কর্মচারীরা। এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে জালালাবাদ পাম্পের ম্যানাজার বা মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায় নি।

সিলেটের ফিলিং স্টেশনগুলোতে এ অবস্থা গত শক্রবার থেকেই। ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, বৃহস্পতিবারে গ্রহকদের তেল কেনার চাপ তেলে ঘাটতি দেখা দেয়।

এ অবস্থায় রোববার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনায় বসেন ফিলিং স্টেশন ব্যাবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

বৈঠক শেষে ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বিপিসর নতুন নিয়মের নির্দেশনায় সিলেটের অনেক স্টেশন তেল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। আাশা করি আগামীকালের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। বৈঠক তেলের সরবরাহ নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করে ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

বৈঠক শেষে সিলেট পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াসাদ আজিম বলেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের সঙ্কট নেই। দেশেই এগুলো চাহিদামাফিক উৎপাদন হয়। কেবল ডিজেল আমদানি করতে হয়। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থায় সমমস্যার কারণে সিলেটে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ডিপো থেকে চাহিদামাফিক সরবরাহ মিলছে না।

তিনি বলেন, আজকে আমরা জেলঅ প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।

Manual4 Ad Code

সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, তেলের ঘাটতি এখনো শুরু হয়নি দেশে। যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঘাটতির কথা বিবেচনায় রেখে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে প্রশাসন। মন্ত্রনালয়ের সাথে কথা হচ্ছে, সিলেটের এই সংকট আশা করছি দুয়েক দিনের মধ্যে সমাধান হবে।

Manual6 Ad Code

সিলেটের ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দেদের সাথে জেলা প্রশাসকের বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারনে সরকার এডভান্স থিংকিং করেছে যার কারনে একটু ক্রাইসেস হয়েছে। মানুষ সম্ভাব্য সংকটের কথা শুনেই ২ লিটারের জায়গায় ১০ লিটার কিনে নিচ্ছে বলে এ কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের সিলেটের ডিপোগুলোতে যেভাবে সাপ্লাই দেওয়ার কথা তার চার ভাগের এক ভাগে চলে এসেছে। এটি মারাত্মক একটি বির্পযয় ।

অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ না করার অনুরোধ জানিয়ে জনগনের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ইতিমধ্যে জাহাজ আসছে। সরকার ডিজেল পেট্রলের দাম বাড়াচ্ছে না। হঠাৎ সারাদেশে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিলেটে এই সরবরাহ ঘাঠতি । আপনারা দয়া করে বাড়তি তেল কিনে কৃত্রিম সংকট করবেন না।

মধ্যপ্রাচ্যে যুুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনায় জ্বালানি তেল সরবরাহে বিধিনিষেধ আরোপ করে।

Manual4 Ad Code

নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল দেওয়া হবে। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পিকআপ বা স্থানীয় বাস প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন