Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট ওভারসিজ সেন্টার ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু, সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের

admin

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৪১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৪১ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেট ওভারসিজ সেন্টার ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু, সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। সে লক্ষ্যে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে রাতের মধ্যে সব মালামাল সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেন। এসময় ব্যবসায়ীদের সাথে ম্যাজিস্ট্রেটের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। মার্কেট ছাড়তে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনাকে অবৈধ বলেও দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।

তবে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনার পর মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। রাতেও অনেক ব্যবসায়ীকে নিজেদের দোকানের আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

সিলেটে প্রবাসীদের বিনিয়োগ, কেনাকাটা, তথ্যসেবা নিশ্চিত ও আবাসনের কথা মাথায় রেখে ১৯৭৮ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বাংলাদেশ ওভারসিজ স্টোর ট্রাস্ট গঠন করেন। সরকারি অর্থায়নসহ প্রবাসীদের সহায়তায় একই বছর শুরু হয় নগরীর ব্যস্ততম এলাকা জিন্দাবাজারে ট্রাস্টের সেন্টার ভবন নির্মাণের কাজ। পাঁচতলার ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবনের তৃতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসন। যা ওভারসিজ সেন্টার নামে পরিচিত।

Manual3 Ad Code

ভবনটির নিচতলাসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ১৭ জন ব্যক্তির কাছে বিভিন্ন পজিশন বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। বছরের পর বছর গেলেও ভবনটির সঠিক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হয়নি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত ভবনটি তাই আর এগোতে পারেনি। ফলে ওপরের অংশের ব্যবসায়ীরাও ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয় নিজেদের।

Manual5 Ad Code

সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম নড়েচড়ে বসেন ওভারসিজ সেন্টার নিয়ে। তিনি প্রথমে ভাড়া বৃদ্ধি ও তা পরিশোধ করার নির্দেশ ছাড়াও সবশেষ সবার চুক্তি বাতিল করে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সেখানকার ভাড়াটিয়া ও বন্দোবস্ত-গ্রহীতাদের পজিশন সমঝে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। ঈদের পরপরই মার্কেট ছেড়ে দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। তবে ব্যবসায়ীরা তা না মেনে দখল অব্যাহত রাখেন।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন এই মার্কেটে অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. পারভেজ। এসময় সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

Manual2 Ad Code

মো. পারভেজ জানান, ওভারসিজ সেন্টারটি ভুমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বড় ধরনের ভূমিকম্পে ভবনটি ধ্বসে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিভিন্ন সময়ে সেন্টার থেকে দোকানপাট সরিয়ে ফেলার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। যা আমলে নেয়নি দোকান মালিকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা অন্তত ১৮টি দোকানের মালপত্র দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোকান মালিকরাও দ্রুত মালপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এটি ভেঙে ফেলা হবে। পরবর্তীতে এখানে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান এই সহকারী কমিশনার।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করেই ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৮২ সালে ভবনটির উদ্বোধনের সময় কয়েকজন প্রবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ একটি দোকানকোঠা দুই লাখ ১০ হাজার টাকা সালামি দিয়ে বন্দোবস্ত নেন। ওই সময় জেলা প্রশাসক ও ট্রাস্টি বোর্ড দোকান কক্ষগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে নিলামের মাধ্যমে ২০ বছরের জন্য লিজ প্রদান করেন। ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে ইজারা দেওয়া হয়নি। এমনকি সেন্টারের উন্নতি হয়নি।

বর্তমান জেলা প্রশাসক গেল বছরের অক্টোবরে প্রতি বর্গফুট আট টাকা থেকে ১০০ ও ১৫০ টাকা করে ভাড়া নির্ধারণ করেন। গত ৩০ ডিসেম্বর আবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন স্বাক্ষরিত চিঠিতে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে সব লিজ বাতিল এবং ৫ ফেব্রুয়ারিখের মধ্যে দোকান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে আপত্তি তোলেন বন্দোবস্তগ্রহীতাসহ ব্যবসায়ীরা।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে উচ্ছেদের নোটিশ ও ভবন ভাঙার কথা জানানোর পর ইজারাগ্রহীতারা উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি আল জলিল ও বিচারপতি আনওয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জেলা প্রশাসককে শোকজ ও দুই সপ্তাহের রুল জারি করেন। রুলে ভবনের অবস্থা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন ছাড়া উচ্ছেদ ও ভবন ভাঙা কেন অবৈধ হবে না– তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এই রুলের পর অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের মার্কেট থেকে সরিয়ে দেওয়া অবৈধ বলে দাবি করেন মার্কেটের বন্দোবস্তগ্রহীতা মাহিদুল ইসলাম মাহিদ।

Manual3 Ad Code

শেয়ার করুন